আজকের দিনেভারত

সোমবারই ইস্তফা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, পাটলিপুত্রের কুর্সিতে কি এবার গেরুয়া শাসন?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,পাটনা: গত ২০ বছর ধরে বিহারের রাজনীতির ধ্রুবতারা হয়ে থাকা নীতীশ কুমারের মুখ্যমন্ত্রীত্বের অধ্যায়ে ইতি পড়তে চলেছে। রাজনৈতিক মহলে ‘পলটুরাম’ হিসেবে পরিচিত জেডিইউ প্রধান সোমবারই বিহার বিধান পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে চলেছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খালি হতে চলেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসন। নীতীশের এই প্রস্থান বিহারের রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ১৬ মার্চ রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নীতীশ কুমার। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য থাকাকালীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হলে, তাকে ১৪ দিনের মধ্যে পূর্ববর্তী পদ ছাড়তে হয়। নীতীশের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৩০ মার্চ, অর্থাৎ সোমবার। রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দিল্লির রাজনীতিতে ইনিংস শুরু করতে চলেছেন তিনি, আর তার জেরেই ছাড়তে হচ্ছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর গদি।

নীতীশ কুমারের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে এনডিএ শিবিরের অন্দরে জল্পনা তুঙ্গে। বিশ্লেষকদের মতে, এবার নীতীশের দলের পরিবর্তে বিজেপির হাতেই যেতে পারে কুর্সি। উঠে আসছে তিনটি প্রধান নাম।

সম্রাট চৌধুরী: বিহারের বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপির প্রভাবশালী নেতা। মাত্র ৯ বছর আগে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেও তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তাঁর পাল্লা সবচেয়ে ভারী বলে মনে করা হচ্ছে।

নিত্যানন্দ রাই: ওবিসি ভোটব্যাঙ্ক এবং যাদব সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইকেও মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাতে পারে বিজেপি।

নিশান্ত কুমার: রাজনীতিতে সদ্য পা রাখা নীতীশ-পুত্র নিশান্তকে নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তবে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী নয়, বরং ভারসাম্যের রাজনীতি বজায় রাখতে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

যদি সম্রাট চৌধুরী বা নিত্যানন্দ রাই মুখ্যমন্ত্রী হন, তবে স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিহারের মসনদে বসবেন কোনো বিজেপি নেতা। যদিও সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত নীতীশ কুমার কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তবে জেডিইউ শিবিরের মতে পরবর্তী নাম নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০ বছরের দীর্ঘ শাসনের পর সোমবার বিহারে নীতীশ-সূর্য অস্ত যাচ্ছে। নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন, তবে বিহারের কুর্সি এবার গেরুয়া শিবিরের দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিকেলের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে স্বাধীনতার পর প্রথমবার পাটলিপুত্রের শাসনভার সরাসরি বিজেপির হাতে যাচ্ছে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *