আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

নির্বাচনের আগেই ‘১৭৭’ আসনের ভবিষ্যদ্বাণী শুভেন্দুর! ইভিএম হ্যাকের আশঙ্কায় পাল্টা তোপ ব্রাত্য বসুর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: একুশের নির্বাচনে ৭৭-এ থেমেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই সংখ্যা যে ১৭৭ ছাড়িয়ে যাবে, তা রীতিমতো অঙ্ক কষে বুঝিয়ে দিলেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রামনগরে এক কর্মীসভা থেকে তাঁর এই ‘ডেডলাইন’ দেওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। শুভেন্দুর এই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাতত্ত্বের নেপথ্যে ইভিএম হ্যাক করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

রামনগরে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর মণ্ডলের সমর্থনে আয়োজিত সভায় শুভেন্দু অধিকারী গত দুই নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ২০১৬-তে ৩টি আসন থেকে ২০২১-এ দল ৭৭-এ পৌঁছেছে। এবার সেই ধারা বজায় রেখে ১৭৭-এর নিচে নামবে না বিজেপি। এই আত্মবিশ্বাসের কারণ হিসেবে তিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করেছেন, শুভেন্দুর রূপকধর্মী ভাষায়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রথম দফার নাম ‘ব্রেকফাস্ট’ (৫৮ লক্ষ নাম) এবং দ্বিতীয় দফার নাম ‘লাঞ্চ’ (৭ লক্ষ নাম)। তাঁর মতে, এখনো ‘ডিনার’ বা চূড়ান্ত দফার নাম বাদ যাওয়া বাকি রয়েছে। বিজেপির দাবি, গত সোমবার প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে যে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে, তার মধ্যে সিংহভাগই ছিল ‘ভূতুড়ে ভোটার’। এই ভোটাররা বাদ গেলেই বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত হবে।

শুভেন্দুর এই সুনির্দিষ্ট সংখ্যার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে সরব হন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ভোট হওয়ার আগেই কীভাবে কেউ সঠিক সংখ্যা বলতে পারেন? ব্রাত্যর খোঁচা,“নির্দিষ্টভাবে ১৭৭ কীভাবে বলছেন শুভেন্দু? তবে কি ইভিএম হ্যাক করার কোনো গোপন নীল নকশা তৈরি হয়ে গিয়েছে? আমরা এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারছি না।” নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ছিল। জুডিশিয়াল অফিসারদের নজরদারিতে ৩২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বা ১৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭৬-৭৭ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরেই এখন আবর্তিত হচ্ছে বাংলার ভোট-রাজনীতি। শুভেন্দুর এই ‘সমাজদার কে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যায়’ মন্তব্যে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে তালিকা সংশোধনে বিজেপির স্বস্তি, অন্যদিকে হ্যাকিংয়ের আশঙ্কায় তৃণমূলের প্রতিবাদ— সব মিলিয়ে ছাব্বিশের লড়াই শুরুর আগেই শুরু হয়েছে স্নায়ুর যুদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *