বিশ্বমঞ্চে বাংলার লোকশিল্পে জয়! নতুনগ্রামের পুতুল শিল্পীদের পাশে ইউনেস্কো
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, পূর্ব বর্ধমান: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে জয়জয়কার বাংলার লোকশিল্পের। এবার মর্যাদাপূর্ণ ‘জিআই’ বা ভৌগোলিক নির্দেশক স্বীকৃতি পেল পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার নতুনগ্রামের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুল। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই নতুনগ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে উৎসবের আবহ। শুধু জিআই স্বীকৃতিই নয়, এই শিল্পের প্রসারে এবার সরাসরি হাত বাড়াল রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইউনেস্কো’। জোড়া সুখবরে খুশির হাওয়া কাষ্ঠশিল্পীদের পরিবারে।
জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার আনন্দ উদযাপন করতে নতুনগ্রামের শিল্পীদের উদ্যোগে সম্প্রতি একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই স্বীকৃতি পুতুল শিল্পীদের বছরের পর বছরের কঠিন পরিশ্রমের প্রাপ্য সম্মান। এটি সত্যিই অত্যন্ত খুশির খবর। আগামী দিনে এই শিল্পের আরও প্রসার এবং শিল্পীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।”
ঠিক এই সময়েই নতুনগ্রামে এসে পৌঁছয় ইউনেস্কোর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। তাঁরা শিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখার পাশাপাশি তাঁদের তৈরি কাঠের পেঁচা, গৌর-নিতাই মূর্তি প্রভৃতি কাজ খুঁটিয়ে দেখেন এবং শিল্পীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন।
ইউনেস্কোর প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুনগ্রামের কাষ্ঠশিল্পীদের স্বনির্ভরতা ও দক্ষতা বাড়াতে খুব শীঘ্রই একটি বড়সড় বিশেষ প্রকল্প শুরু হতে চলেছে।
-
আধুনিক প্রশিক্ষণ: নতুনগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পী উত্তম ভাস্কর জানান, “ইউনেস্কোর সদস্যরা আমাদের এখানে এসেছিলেন। তাঁরা আগামী দিনে আমাদের ৫০ দিনের একটি বিশেষ আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”
-
বিশ্ববাজারের সুযোগ: এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো গ্রামীণ এই শিল্পকে আধুনিক করে তোলা এবং শিল্পীদের তৈরি সামগ্রী যাতে অনায়াসে দেশ-বিদেশের বড় বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করা।
জিআই স্বীকৃতির ফলে কী কী সুবিধা পাবেন শিল্পীরা?
নতুনগ্রামের হাতে তৈরি কাঠের পুতুল ও কাঠের পেঁচা বহু বছর ধরেই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এবার জিআই ট্যাগ মেলায় এই শিল্প এক নতুন আইনি ও বাণিজ্যিক মাত্রা পেল:
১. নকল পণ্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষা: বাজারে নতুনগ্রামের নাম করে তৈরি হওয়া নকল বা মেশিনে তৈরি পুতুলের বিরুদ্ধে এবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। ফলে স্বকীয়তা বজায় থাকবে।
২. আর্থিক উন্নয়ন: বিশ্ববাজারে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় শিল্পীরা তাঁদের কাজের সঠিক মূল্য পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে।
৩. নতুন প্রজন্মের আগ্রহ: এই আন্তর্জাতিক সম্মান ও সরকারি স্বীকৃতি আগামী প্রজন্মকেও এই ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক শিল্পচর্চায় যুক্ত হতে আরও বেশি উৎসাহিত করবে।
সব মিলিয়ে, জিআই-এর আইনি ঢাল আর ইউনেস্কোর বিশ্বমানের সহায়তায় নতুনগ্রামের কাষ্ঠশিল্প আগামী দিনে বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বল ও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
