আজকের দিনেতিলোত্তমা

৩৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতিতা নাবালিকা, গর্ভপাতের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে বাবা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: শারীরিক নির্যাতনের শিকার ১৭ বছরের নাবালিকা কন্যা এখন ৩৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এই অনভিপ্রেত গর্ভাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বাবা। মামলার গুরুত্ব বিচার করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালকে দ্রুত একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

দীর্ঘ নিখোঁজের পর মর্মান্তিক পরিণতি

আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতকে জানান, গত কয়েক মাস ধরে বছর সতেরোর ওই নাবালিকা নিখোঁজ ছিল। থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় হাইকোর্টে মামলা করেন বাবা। অবশেষে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে একটি হোমে পাঠিয়ে দেয়। হোম থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে, মেয়েটি সন্তানসম্ভবা। বাবার অভিযোগ, নিখোঁজ থাকাকালীন তাঁর মেয়ে পৈশাচিক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে আদালতের প্রশ্ন

বর্তমানে মেয়েটি ৩৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এবং আগামী ২৪ মে তার প্রসবের সম্ভাব্য দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এসএসকেএম-এর মেডিক্যাল বোর্ডকে খতিয়ে দেখতে হবে:

  • এত উন্নত পর্যায়ে (৩৩ সপ্তাহ) গর্ভপাত করা কি আদৌ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকে সম্ভব?

  • গর্ভপাত করানোর ফলে নাবালিকার জীবনের কোনো ঝুঁকি রয়েছে কি না?

আইনি জটিলতা ও ঝুঁকি

ভারতীয় আইন অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার পর গর্ভপাত করাতে গেলে আদালতের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। চিকিৎসকদের মতে, ২০ সপ্তাহের পর গর্ভপাত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মা ও শিশু উভয়ের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। যেহেতু এই ক্ষেত্রে সময়সীমা ৩৩ সপ্তাহ পার করে ফেলেছে, তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করছে নাবালিকার ভবিষ্যৎ।

রাজ্যের অন্যতম প্রধান সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এসএসকেএম-এর রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। নাবালিকার সুরক্ষা এবং শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই আদালত এই স্পর্শকাতর মামলায় পদক্ষেপ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *