আজকের দিনেবাংলার আয়না

বারুইপুর ধর্ষণ কাণ্ডে মৃতর স্ত্রী ও মা’য়ের প্রতিক্রিয়া: ‘যা হয়েছে, ঠিক হয়েছে’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বারুইপুর: উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার সংস্কৃতি’ এবার দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গেও। বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় এই এনকাউন্টার ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপে যেখানে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, তেমনই উল্টো সুর শোনা গেল না খোদ অভিযুক্তের পরিবারে। প্রভাসের মা ও স্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যা হয়েছে, ঠিক হয়েছে।”

​ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও এনকাউন্টার

​বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমেই গ্রেপ্তার করেছিল প্রভাস মণ্ডলকে। তাকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার করা হয়েছিল নিখোঁজ নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য প্রভাসকে বারুইপুরের সূর্যপুরে, অর্থাৎ অকুস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।
​তদন্তকারীদের দাবি, সেই সময় আচমকাই পুলিশের বন্দুক হাতিয়ে নিয়ে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় প্রভাস এবং এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে এবং তাকে রুখতে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে উদ্ধার করে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

​”ও সব পারে, দোষ করেছে তাই গুলি খেয়েছে”: বিস্ফোরক স্ত্রী

​বুধবার সকালে পুলিশের তরফে প্রভাস মণ্ডলের বাড়িতে তার মৃত্যুর খবর পাঠানো হয়। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন প্রভাসের স্ত্রী। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান:
​”ও বরাবরই নোংরা মানসিকতার। তাই ও এই কাজ করেনি, এমন দাবি আমি কোনোভাবেই করতে পারব না। ও এই কাজ করতেই পারে, ও সব পারে। বিয়ের পর থেকে আমার ওপর কম অন্যায়-অত্যাচার করেনি। সেইসব সহ্য করেই সংসার করেছি। ও দোষ করেছে, তাই গুলি খেয়েছে।”
​দেহ নিতে অস্বীকার মায়ের, পরে থানার উদ্দেশ্যে রওনা
​ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রথমটায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “যা হয়েছে, ঠিক হয়েছে। আমরা কেউ ওর দেহ নিতে যাব না।” তবে পরবর্তীকালে থানার তরফ থেকে যোগাযোগ করে দেহ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে, পরিবারের সকলে মিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত বদল করেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রভাসের মা ও স্ত্রী ইতিমধ্যেই থানার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
​বারুইপুরের এই এনকাউন্টারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে পুলিশি তৎপরতাকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছেন, অন্যদিকে খোদ পরিবারের এই অনমনীয় ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান সমাজের বুকে এক বড় বার্তা দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *