চন্দ্রনাথ খুনে সরব তাঁর মা, ‘মমতার হারের প্রতিশোধ নিতেই খুন’, দাবি হাসি রথের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মধ্যমগ্রাম: বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন নিহতের মা হাসি রথ। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘মমতার হারের প্রতিশোধ’
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসি রথ। তিনি জানান, চন্দ্রনাথ নন্দীগ্রাম, ভবানীপুর ও চণ্ডীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্বাচনের দায়িত্ব সামলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় মেনে নিতে না পেরেই তৃণমূলের লোকজন তাঁর ছেলেকে টার্গেট করেছে। হাসিদেবী বলেন, “তৃণমূলের নেতারা গরম গরম বক্তব্য দিয়ে বলেছিল ৪ তারিখের পর দিল্লির কোনও বাপ রক্ষা করতে পারবে না। সেটাই তারা করে দেখিয়ে দিল।”
দোষীদের ফাঁসি চান না মা
ছেলের খুনিদের কঠোর শাস্তি চাইলেও, মা হিসেবে কোনো চরম পথ বেছে নিতে চান না হাসি রথ। তিনি জানান: ”আমি একজন মা। আমি চাই না দোষীদের ফাঁসি হোক, কিন্তু আমি তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, একদিকে শুভেন্দু অধিকারী যখন সকলকে সুশৃঙ্খল থাকার কথা বলছেন, তখন তৃণমূলের নেতারা একের পর এক হুমকি ও হুঁশিয়ারি দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করছেন। তাঁরা বিজেপি করেন বলেই তাঁর ছেলেকে এই পরিণতির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি হাসিদেবীর।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত বুধবার মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তাঁর বুক, পেট ও মাথায় একাধিক গুলি লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁদের গাড়ির চালকও।
তদন্তে সিট
ঘটনার খবর পেয়েই বুধবার রাতে হাসপাতালে পৌঁছান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদাররা। শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে ‘ঠান্ডা মাথার খুন’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর পিছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিপূর্বেই আইজি সিআইডি-র নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে।
