ফাইনালের আগে বড় চিন্তা বরুণকে নিয়ে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর ফাইনালে ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে ভারত । গতকালই মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় এসেছে ভারতের। তবুও ভারতীয় শিবিরে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যাকে বলা হচ্ছিল ভারতীয় দলের বাজি সেই খেলোয়াড় টুর্নামেন্ট গড়ানোর সাথে সাথে প্রত্যেক ম্যাচে বিপক্ষ ব্যাটারদের কাছে বেদম প্রহার খেয়েছেন। বরুণ চক্রবর্তী যিনি বর্তমানে টি-টোয়েন্টি রাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান অধিকারী বোলার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল এর মত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চার ওভারে খেলেন ৬৪ রান । বরুণের আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি সর্বোচ্চ । যা আমেদাবাদে ফাইনাল ম্যাচের আগে চিন্তা বাড়াচ্ছে ।
বিশ্বকাপের শুরুতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলিতে দুর্দান্তভাবে পারফর্ম করছিলেন বরুন । চার ম্যাচে নিয়েছিলেন নটি উইকেট ইকোনমি ছিল মাত্র ৬. ৮৮ । প্রতিপক্ষ ব্যাটার রা তার বোলিংয়ের মায়াজালে আটকে পড়েছিল । কিন্তু শেষ চার ম্যাচে এই রহস্য স্পিনারের ইকোনমি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.৬২ ।সুপার এইটে এবং সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ড এই চার দল আগে থেকে বরুণের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিয়ে নেমেছে। ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে বরুণের প্রসঙ্গে বলেন সমস্ত দল এখন বরুণকে আলাদাভাবে খেলছে। আগে ব্যাটাররা তাঁকে চার্জ করে মারার চেষ্টা করত। এখন সেটা কমেছে। পরিবর্তে চড়েছে ক্রিজের গভীরে দাঁড়িয়ে ‘স্টেপ-হিট’ বা পেছনে সরে শট খেলার হার। যার ফলে বরুণের রহস্য কাজ করছে না । সাধারণত ৫ থেকে ৭ মিটার লেন্থে বল ফেলেন বরুণ চক্রবর্তী। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে টি-২০ ক্রিকেটে এই লেন্থ কার্যকর বলে মনে করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় সেই বলকেও ব্যাটাররা আক্রমণ করছে। প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার অনিল কুম্বলে মনে করেন, বরুণকে আরও বৈচিত্র আনতে হবে। তাঁর মতে, ডান হাতি ব্যাটারের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বল এবং ভেতরে ঢোকা বল—দুটোরই মিশ্রণ বাড়ানো জরুরি। তাতে ব্যাটারদের ‘পড়তে’ অসুবিধা।
প্রসঙ্গত এখনো পর্যন্ত টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই আসরে পুরো সর্বাধিক উইকেট শিকারি বোলার বরুণই ( ১৩ উইকেট ) । এবার আমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ফাইনালে তাকে বসিয়ে অন্য কাউকে খেলায় কি না সেটা সময় বলবে? যদিও সেটার সম্ভাবনা কম । আর এটাও দেখার মেগা ফাইনালের আগে বোলিংয়ে তিনি তার ভুলত্রুটি শোধরাতে পারেন কি না ?
