আজকের দিনেতিলোত্তমা

মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের শেষলগ্নে মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট দিতে ঢোকার সময় এবং বেরিয়ে আসার পথে তাঁর চোখেমুখে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ, দেখালেন ‘ভিকট্রি সাইন’। তবে এদিনও তাঁর নিশানায় ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাহিনীর ‘অত্যাচার’ নিয়ে সরব হয়ে মমতা মনে করিয়ে দেন, তিনি এখনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন।

বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ ও আদালত অবমাননার অভিযোগ

মঙ্গলবার রাত থেকেই কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ তল্লাশি চালায়। বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ ভোট দিতে এসে এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তিনি বলেন:

“কাল রাত থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী অত্যাচার করছে। এটা স্পষ্ট আদালত অবমাননা। আমার পাড়ার লোক, মা-বোনেদের মারা হয়েছে। আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাটেও একই চিত্র। এটা কি ওদের ডিউটি? ওরা এটা করতে পারে না।”

অসীম বসুর বাড়িতে হানা নিয়ে ক্ষোভ

এদিন সকালে ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুর কার্যালয় ও বাড়িতে যান। সেখান থেকেই তিনি অভিযোগ করেন, রাত দেড়টা নাগাদ অসীম বসুর বাড়িতে বাহিনী হানা দেয়। মমতার কথায়, “অসীম বাড়িতে ছিল না, ওর স্ত্রী বাচ্চা নিয়ে একা ছিল। তাও ওরা কথা শোনেনি। বাড়িতে ঢুকে হুমকি দিয়ে এসেছে যাতে ভোটের দিন ও কোনও কাজ না করে। এমনকি মোবাইলও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখানে কি গুন্ডারাজ চলছে?”

“দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরছি”

বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূল কর্মীরা মৃত্যুবরণ করবে কিন্তু কারও কাছে মাথা নত করবে না। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকলেও জয়ের বিষয়ে একশো শতাংশ নিশ্চিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি:

  • তৃণমূল কংগ্রেসই পুনরায় সরকার গঠন করছে।

  • দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হবে জোড়াফুল শিবির।

বিকেলে ভোট দিয়ে বেরোনোর সময়ও তাঁর গলায় শোনা যায় একই আত্মবিশ্বাসের সুর। ভবানীপুরের ঘরের মেয়ের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *