আজকের দিনেবাংলার আয়না

উত্তরপাড়া থেকে আরামবাগ— যুযুধান শিবিরের প্রার্থীদের ‘মন ভালো করা’ কোলাজ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, উত্তরপাড়াঃ নির্বাচনী লড়াই মানেই কি কেবল একে অপরের দিকে কাদা ছোড়াছুড়ি আর আক্রমণ? ভোট মানেই কি ব্যক্তিগত শত্রুতা? ছাব্বিশের বঙ্গভোটের  দ্বিতীয় দফায় ধরা পড়ল একদম অন্যরকম এক ছবি। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও যে মানবিকতা হারায়নি, বুধবার তা প্রমাণ করে দিলেন উত্তরপাড়া ও আরামবাগের প্রার্থীরা।

মীনাক্ষী-শীর্ষণ্য: প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, যেন ‘ঘরের মানুষ’

একুশের নন্দীগ্রামের পর ছাব্বিশের লড়াইয়ে বামেদের তরুণ ‘ক্যাপ্টেন’ মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবার উত্তরপাড়ার সৈনিক। তাঁর বিপক্ষে লড়ছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির দীপাঞ্জন গুহ। এদিন সকালে কানাইপুর নেতাজি স্কুলের বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মীনাক্ষী।

বুথ থেকে বেরোনোর মুখে হঠাৎ দেখা হয়ে যায় প্রতিপক্ষ শীর্ষণ্যর সঙ্গে। কোনো মুখ ঘোরানো নয়, বরং একে অপরের দিকে তাকিয়ে চওড়া হাসি হাসলেন দুজনেই। সৌজন্য বিনিময়ের পর বাঙালির চিরকালীন প্রথা মেনে মীনাক্ষী বললেন, “আসছি”। শীর্ষণ্যও হেসে তাঁকে বিদায় জানালেন। প্রচারের সময়ও মীনাক্ষীকে দেখা গিয়েছিল বিরোধীদের ডেরায় গিয়েও ভোট চাইতে, আর ভোটের সকালে এই সৌজন্য উত্তরপাড়ার মানুষের মন জয় করে নিয়েছে।

আরামবাগে আলিঙ্গন: মিতা ও বীথিকার মানবিক বার্তা

সৌজন্যের ধারা বজায় থাকল আরামবাগেও। সালেপুর-২ পঞ্চায়েতের ২১৫, ২১৬ ও ২১৭ নম্বর বুথে যখন তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগ এবং সিপিএম প্রার্থী বীথিকা পণ্ডিতের দেখা হলো, তখন সেখানে কোনো উত্তাপ ছিল না। বরং দুই নারী প্রার্থী একে অপরকে হাসিমুখে আলিঙ্গন করলেন।

একে অপরের কুশল বিনিময় করার পর তাঁরা সংবাদমাধ্যমকে বলেন:

“আমরা মানুষ, আর আমাদের মানবিকতা হারিয়ে যায়নি। ভোট সুষ্ঠুভাবে হোক, এটাই আমরা চাই। ফলাফলে দেখা যাবে কে হারবে আর কে জিতবে, কিন্তু দিনশেষে আমরা যেন মানুষ থাকতে পারি।”

ব্যতিক্রমী এক ছবি

যেখানে দ্বিতীয় দফার ভোটে ভবানীপুর বা ফলতার মতো এলাকায় দফায় দফায় অশান্তি ও উত্তেজনার খবর আসছে, সেখানে উত্তরপাড়া ও আরামবাগের এই সৌজন্যের রাজনীতি এক ঝলক টাটকা বাতাসের মতো। রাজনৈতিক মহলের মতে, গণতন্ত্রের আসল শক্তিই হলো এই সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *