ক্যানসার আক্রান্ত মহিলা থেকে শিশু— দ্বিতীয় দফায় বাহিনীর মারধরের অভিযোগে উত্তাল রাজ্য
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্কঃ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ৭ জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করলেও, বুধবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেই বাহিনীর বিরুদ্ধেই সাধারণ মানুষকে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠল। কোথাও আক্রান্ত হয়েছেন ক্যানসার আক্রান্ত মহিলা, কোথাও আবার বাহিনীর লাঠির ঘায়ে রক্তাক্ত হয়েছে শিশু।
সাতগাছিয়ায় আক্রান্ত শিশু: সরব মহুয়া মৈত্র
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া বিধানসভার ১১৬ নম্বর বুথে। অভিযোগ, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের লাঠির আঘাতে একটি শিশু আহত হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করে লেখেন:
“অমিত শাহের ‘কসাই’ ও ‘জল্লাদ’ বাহিনী নিরীহ শিশুকেও আঘাত করতে ছাড়েনি। ভোটের দিনে সাধারণ মানুষের ওপর এভাবে হামলা চালাচ্ছে বাহিনী।”
তারকেশ্বরে ক্যানসার আক্রান্তকে ‘মার’
হুগলির তারকেশ্বরেও বাহিনীর বিরুদ্ধে অতি-সক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দু সিংহরায়ের অভিযোগ, ভোটারদের লম্বা লাইনে অহেতুক লাঠিচার্জ করেছে বাহিনী। সেই ভিড়ে থাকা এক ক্যানসার আক্রান্ত মহিলাকেও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ৯, ১০ ও ১১ নম্বর বুথেও সাধারণ ভোটারদের ওপর লাঠিচার্জের খবর পাওয়া গেছে।
বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও ‘অতি-সক্রিয়তা’র অভিযোগ
দ্বিতীয় দফায় মোটের ওপর নির্বাচন শান্তিপূর্ণ থাকলেও, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূলের দাবি, বহু জায়গায় ভোটারদের ভয় দেখাতে এবং বুথমুখী হওয়া আটকাতে বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করছে। বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বর্ধমানের বেশ কিছু জায়গায় বাহিনীর ‘অতিরিক্ত সক্রিয়তা’ সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ
যদিও বাহিনীর পক্ষ থেকে বা কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বুথের সামনে জটলা সরাতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে শিশু এবং অসুস্থ মহিলার ওপর হামলার অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ভোট করানোর চেষ্টায় যখন কমিশন অনড়, তখন বাহিনীর বিরুদ্ধেই ‘হিংসা’র এই অভিযোগ ভোটের পরিবেশকে তপ্ত করে তুলেছে।
