Baruipur-CPM : বারুইপুর গণপিটুনি কাণ্ড: উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তার সিপিএম নেতা লাহেক আলি !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নরেন্দ্রপুর :- বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনি ও অশান্তিতে উসকানির অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য লাহেক আলি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রবিবার সন্ধ্যায় খোদারবাজারের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বারুইপুর থানার পুলিশ।
সম্প্রতি বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। রাস্তা-রেল অবরোধ, পুলিশের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের পাশাপাশি উত্তেজিত জনতা এক সন্দেহভাজন ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন করে।
এই ঘটনার পর বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, নিহত ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ ছিলেন। অশান্তির নেপথ্যে মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তির পাশাপাশি বাম-অতিবামেদের উসকানি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। “ভোটে হেরে গিয়ে হিংসায় উসকানি দেওয়া হয়েছে। কল রেকর্ডিং সংগ্রহ করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের শিক্ষা দেওয়ার কাজ করবে সরকার। কাউকে রেয়াত করা হবে না” – হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এরপর ৭ জুলাই সন্ধ্যায় সুজন চক্রবর্তী-সহ ৪ সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। সেই এফআইআরে নাম ছিল ছাব্বিশের নির্বাচনের বারুইপুর পশ্চিমের বামপ্রার্থী লাহেক আলিরও। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের হয়।
শনিবার ফের দোষীদের কড়া শাস্তির কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরের দিনই অর্থাৎ রবিবার সন্ধ্যায় খোদারবাজারের বাড়ি থেকে লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অশান্তির আশঙ্কায় রাতেই তাঁকে নরেন্দ্রপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
বারুইপুরের গণপিটুনির ঘটনায় প্রথম বড় গ্রেপ্তারি এটি। পুলিশ সূত্রে খবর, কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে আরও নাম জড়িত থাকলে গ্রেপ্তারি হতে পারে। আপাতত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে যাতে নতুন করে অশান্তি না ছড়ায়।
