আজকের দিনেগরম মাশলা

বর্ষার মেঘলা দিনে পাতে পড়ুক ৭ প্রদেশের ‘ম্যাজিক খিচুড়ি’, রইল রেসিপি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- বর্ষার মেঘলা দিনে এক বাটি গরম ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ির চেয়ে আরামদায়ক আর কিছুই হতে পারে না। আয়ুর্বেদ অনুসারে এই স্যাঁতসেঁতে মরসুমে যখন আমাদের পরিপাকতন্ত্র কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে, তখন চাল ও ডালের সুষম মেলবন্ধনে তৈরি এই হালকা অথচ পুষ্টিকর খাবারটি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে দারুণ সাহায্য করে। বৃষ্টির আমেজকে আরও একটু সুস্বাদু করে তুলতে এই মরসুমে আপনি চেখে দেখতে পারেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ৭টি চমৎকার স্বাদের খিচুড়ি:

সাবুদানার খিচুড়ি

উপবাস বা উৎসবের দিনগুলিতে এনার্জি জোগাতে সাবুদানার খিচুড়ি সারা দেশেই ভীষণ জনপ্রিয়। কার্বোহাইড্রেটে ভরপুর এই পদটি তৈরির মূল চাবিকাঠি হল সাবুদানা ভালো করে ধুয়ে অতিরিক্ত স্টার্চ ফেলে দেওয়া এবং চার ঘণ্টার বেশি না ভিজিয়ে রাখা। রান্নার সময় ভাজা চিনাবাদামের গুঁড়ো এবং কোড়ানো নারকেল এর সঙ্গে মেশালে আপনার বর্ষার দুপুর একেবারে জমে যাবে।

বারডোলি কি খিচুড়ি

গুজরাটের বারডোলি অঞ্চলের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী পদ হল এটি। আলু, গাজর, মটরশুঁটি এবং বেগুন সহযোগে তৈরি এই পুষ্টিকর খিচুড়িতে ফোড়ন হিসেবে ব্যবহার করা হয় সুগন্ধী মশলা এবং কাঁচা আম। কাঁচা আমের হালকা টক ভাব এবং সবজির পুষ্টিগুণ এই পদটিকে বর্ষার দিনে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খিচুড়ি

বাঙালির বারো মাসের প্রিয় খিচুড়ি বর্ষার দিনে যেন আরও বেশি জমজমাট হয়ে ওঠে। চাল, ডাল এবং খাঁটি ঘি-মশলার এই মেলবন্ধনে অনেকে ফুলকপি, আলু ও মটরশুঁটি যোগ করতে পছন্দ করেন। আবার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতা অনুযায়ী এতে মাছ বা মাংসের মতন বৈচিত্র্যও দেখা যায়। তবে ঐতিহ্য মেনে হালকা পাতলা বা চচ্চড়ি দিয়ে সিম্পল খিচুড়ি খাওয়ার আনন্দই আলাদা।

ওড়িশার দালমা ও আদা-হেঙ্গু খেচুড়ি

ওড়িশার বিখ্যাত দালমা খিচুড়ি পুষ্টি এবং স্বাদে এতটাই অতুলনীয় যে একে কেউ অসুস্থ মানুষের খাবার বলার ভুল করবেন না। অড়হর ডালের সঙ্গে কাঁচকলা, মিষ্টি কুমড়ো, বেগুন সহ নানা সবজি সেদ্ধ করে সর্ষে ও জিরের চমৎকার ফোড়ন দিয়ে এটি তৈরি হয়। এছাড়া পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ হিসেবে তৈরি ‘আদা হেঙ্গু খেচুড়ি’র স্বাদও ওড়িশায় অত্যন্ত জনপ্রিয়।

বিসি বেলে বাথ

কর্ণাটকের প্রতিটি রেস্তোরাঁ ও টিফিন সেন্টারের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হল ‘বিসি বেলে বাথ’, যার অর্থ গরম লেন্টিল রাইস। চাল, ডাল এবং বিশেষ কিছু দক্ষিণ ভারতীয় মশলার সঙ্গে দেশি ঘি, সর্ষে, কারিপাতা, শুকনো লঙ্কা ও কাজুবাদামের ফোড়নে তৈরি এই খিচুড়ির টেক্সচার সামান্য আঠালো এবং স্বাদ বেশ চটপটা হয়। কম সময়ে রাজকীয় স্বাদ পেতে এর জুড়ি মেলা ভার।

৬. পালং ডাল খিচুড়ি (Palak Dal Khichdi)

বর্ষার দিনে মুখে একটু ভিন্ন স্বাদ আনতে এবং মেটাবলিজম বাড়িয়ে শরীরের প্রদাহ দূর করতে পালং ডাল খিচুড়ি দুর্দান্ত অপশন। এটি সম্পূর্ণ গ্লুটেন-মুক্ত এবং ভেগান একটি পদ, যা পুষ্টির পাশাপাশি পকেটের জন্যও বেশ সাশ্রয়ী। আপনি চাইলে এর পুষ্টিগুণ আরও বাড়াতে এর মধ্যে গাজর, টমেটো বা ক্যাপসিকামের মতো মরসুমি সবজিও কুচিয়ে দিতে পারেন।

চানা ডাল খিচুড়ি

মুগ ডালের চেনা স্বাদ থেকে একটু ছুটি নিতে চাইলে ঘরে থাকা ছোলার ডাল দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন চানা ডাল খিচুড়ি। বাসমতি চালের সঙ্গে ৪-৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা ছোলার ডাল, হিং, লাল লঙ্কার গুঁড়ো এবং সামান্য তেলের কম্বিনেশনে তৈরি এই পদটি ভীষণ হালকা অথচ সুস্বাদু হয়। অল্প পরিশ্রমে তৈরি এই চমৎকার খিচুড়ি আপনার বর্ষার দুপুরকে অনায়াসেই জমিয়ে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *