কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকা: শিশুদের ডায়াবেটিস চিকিৎসায় পথ দেখাবে পশ্চিমবঙ্গ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা:- শিশুদের ডায়াবেটিস চিকিৎসায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে পুরো দেশের সামনে পথ দেখাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। বাংলার এই সফল মডেলকে ভিত্তি করেই ‘রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কর্মসূচি’ (RBSK) ২.০-এর আওতায় দেশজুড়ে শিশুদের ডায়াবেটিস দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য নতুন জাতীয় নির্দেশিকা কার্যকর করতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি অভিজাত হোটেলে শুরু হয়েছে দু’দিনের জাতীয় কর্মশালা, যেখানে দেশের ২৯টি রাজ্যের প্রায় ১০০ জন নোডাল অফিসার অংশ নিয়েছেন।
বাংলার মডেল কীভাবে হলো জাতীয় নির্দেশিকার ভিত্তি?
শিশুদের টাইপ-১ বা জুভেনাইল ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য দেশের প্রথম মডেল ক্লিনিক তৈরি ও সম্প্রসারণ হয়েছিল এই পশ্চিমবঙ্গেই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর, এসএসকেএম হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সুজয় ঘোষ এবং ইউনিসেফ পশ্চিমবঙ্গের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় গড়ে ওঠা সেই মডেলই এখন জাতীয় নির্দেশিকার মূল ভিত্তি।
২০২১ সালে অধ্যাপক ডা. সুজয় ঘোষের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু হয়। শিশুদের দ্রুত রোগ নির্ণয়, নিয়মিত ফলোআপ, বিনামূল্যে ইনসুলিন, পুষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শের মতো পরিষেবা দেওয়া হয় ওই প্রকল্পে। এর সাফল্য দেখেই গত ৩০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা সংশোধিত জাতীয় নির্দেশিকা প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিশ্বজয়:
বাংলার এই বিশেষ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট ডায়াবেটিস’ এই মডেলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই বিশ্বের ছয়টিরও বেশি দেশ এই প্রকল্প তাদের দেশে চালু করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছে।
কেন জরুরি এই স্ক্রিনিং?
তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ বছরের কম বয়সি প্রায় ১১ লক্ষ শিশু ও কিশোর টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। কিন্তু সচেতনতার অভাবে বহু ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মধ্যে এই ৪টি লক্ষণ দেখলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করা উচিত:
১. অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া
২. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
৩. দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
৪. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
উপকৃত হবে ২৬ কোটি শিশু:
নতুন এই কর্মসূচির আওতায় স্কুল ও মোবাইল হেলথ টিমের মাধ্যমে উপসর্গযুক্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করা হবে। শুধু টাইপ-১ নয়, কিশোর বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, বিকাশজনিত সমস্যা ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও নিয়মিত স্ক্রিনিং করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অনুমান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রায় ২৬ কোটি শিশু-কিশোর এবং তাঁদের পরিবার উপকৃত হবেন।
কলকাতার এই কর্মশালার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. স্বপন সোরেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব আরাধনা পট্টনায়ক, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন ডিরেক্টর প্রীতি গোয়েল এবং অধ্যাপক ডা. সুজয় ঘোষসহ একাধিক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ।
