পেড্ডি’তে কাঁচি, দর্শকের ক্ষোভে নতি স্বীকার পরিচালকের,মুখ খুললেন কঙ্গনা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- সিনেমা কি শুধুই বিনোদন, নাকি সমাজের প্রতি তারও কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে?মুক্তিপ্রাপ্ত দক্ষিণী ছবি ‘পেড্ডি’কে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ছবিতে জাহ্নবী কাপুরের চরিত্রে যৌনো আবেদন এবং তাঁকে ক্যামেরায় উপস্থাপনের ধরন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ছবির একটি গান ‘হাল্লাল্লালো’এবং কয়েকটি দৃশ্য, যেখানে অনেক দর্শকের অভিযোগ, অভিনেত্রীকে চরিত্রের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত যৌন আবেদনময়ী করে দেখানো হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দর্শক টানার উদ্দেশ্যে নারী শরীরকে ইচ্ছাকৃতভাবে আকর্ষণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দর্শকের এই করা সমালোচনার ঝড় এতটাই প্রবল হয়েছে যার দরুন এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এই সিনেমার পরিচালক। তিনি বলেন, নারী জাতির প্রতি তিনি ‘শ্রদ্ধাশীল’ কাউকে অসম্মান করা বা পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা কখনই তার উদ্দেশ্য নয়। সংবাদ মাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন বিতর্কিত দৃশ্যগুলি সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পরিচালকের বক্তব্য, ছবির গল্প একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে তৈরি,সেই পরিবেশ ও চরিত্রের বাস্তবতা তুলে ধরতেই কিছু সাহসী দৃশ্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু দর্শকেরা সেই দৃশ্যগুলিকে ভিন্নভাবে গ্রহণ করেছেন এবং তা ভুল বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করেছেন। সেই কারণেই দর্শকের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংশোধনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ‘পেড্ডি’ মুভিতে জাহ্নবী কাপুরকে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা দেখে দর্শকের একাংশ নিজেরাই চোখ ঢেকেছেন! সেখানে অভিনেত্রীর অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ, চরিত্রের গভীরতার চেয়ে শরীরী আবেদনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাহ্নবী কাপুরের সৌষ্ঠব কোমরের ঝলকানিকে ‘যৌন গন্ধি’ বলে দাবি করেছেন সমাজের নীতিপুলিশরাও।এরই মধ্যে ফ্যান ক্লাবের সঙ্গে জাহ্নবীর কথোপকথনের চ্যাট ফাঁস হয়ে যায়। চ্যাটের স্ক্রিনশট অনুযায়ী, দক্ষিনী ছবিতে ভবিষ্যতে অভিনয়ের বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করবেন তিনি। তার আফসোস, সেটে তার মা অর্থাৎ শ্রীদেবী উপস্থিত থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরির সুযোগই আসতো না। এক ভক্তের প্রশ্নের উত্তরে দক্ষিণী নায়িকা শ্রীলীলার প্রসঙ্গ টেনে আফসোস করে তিনি বলেন “সেটে যদি মা থাকে তাহলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় সেই জন্যই শ্রীলীলার মা সব সময় তার সঙ্গে থাকেন”।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ‘বলিউড কুইন’ কঙ্গনা রানাউত। তাঁর মতে, শুধুমাত্র সিনেমাকেই দায়ী করলে হবে না। সমাজের বিভিন্ন স্তরেই নারীরা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তারইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে বিনোদন জগতে অনেক সময় বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য নারীদের উপস্থাপনায় অতিরঞ্জন ঘটে। কঙ্গনা যুক্তি অনুযায়ী,”আপনি যদি লোকাল ট্রেনে যান সেখানেও নারী শরীরের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পরে, লোকাল ট্রেনে ধাক্কাধাকি, অসৌজন্যমূলক আচরণ বাসে কিংবা রাস্তাঘাটেও ঘটে এ ধরনের ঘটনা শুধু সিনেমার পর্দাতেই সীমাবদ্ধ নয় তা বলাই বাহুল্য।
ট্রোল প্রসঙ্গে কঙ্গনা বলেছেন”আমার মনে হয় আজকাল যে কোন বিষয়ে যে কেউ ট্রোলের শিকার আমরা আগে জানতে চাই না বিষয়টি আসলে কি গল্পের প্রেক্ষাপট কি হয়তো সেই চরিত্র বা পরিস্থিতির সঙ্গে কাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সেসব না ভেবেই শুধু কটাক্ষ করা হয়, এটা মোটেই কাম্য নয়”।‘পেড্ডি’ বিতর্ক শুধু একটি সিনেমাকে ঘিরে নয়,এটি নারী চরিত্রের উপস্থাপন, দর্শকের ভারসাম্য খোঁজার একটি বড় আলোচনার অংশ। একদিকে শিল্পীর সৃজনশীল স্বাধীনতা, অন্যদিকে সামাজিক দায়বদ্ধতা এই দুইয়ের সংঘাত।
