আজকের দিনেভারত

‘এবছরই ফিরছি’, দুই বছর পর বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- গত দুবছর ধরে ভারতে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার দেশে ফেরার কথা ঘোষণা করলেন তিনি। আওয়ামি লিগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাদিবসে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, এবছরই বাংলাদেশে ফিরে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ফেরাতে চান। সঙ্গে আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক অধিকারও আদায় করবেন।

২০২৪ সালের অগাস্টে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে দিল্লিতেই রয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ তাঁকে প্রত্যর্পণের আর্জি জানালেও ভারত এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। গত ২৩ জুন আওয়ামি লিগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাদিবসে মুখ খুলে হাসিনা বলেন, “এবছরই ফিরে যাব আমি। আওয়ামি লিগ শুধু রাজনৈতিক দল নয়, শক্তি। সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অর্থ দেশের স্বাধীনতার উপর হামলা।” মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মিথ্যা মামলা, গ্রেফতারি ও নিপীড়নের মাধ্যমে গণতন্ত্রের গলা চেপে ধরা হচ্ছে। তাঁর দাবি, পরাজয়ের ভয়েই আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাসিনা বলেন, “আওয়ামি লিগের নেতা, সমাজকর্মীরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। কেউ গৃহহীন, কারও বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলা, কেউ আহত, অঙ্গহানি হয়েছে কারও, অনেকে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন।” তবু দল মনোবল হারায়নি বলে দাবি করেন তিনি। জানান, “আমার অনুপস্থিতি নীরবতা নয়। আমি দূরে থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছি। প্রত্যেক কর্মীর আত্মত্যাগ ও কষ্ট অনুভব করেছি।” দেশে ফিরে আওয়ামি লিগকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন হাসিনা। গ্রাম, ওয়ার্ডের বাসিন্দা, সংখ্যালঘু, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ১৯৮১ সালে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সব লড়াইয়ে রাজি আমি। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানুষকে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরব।”

 

দুবছর পর শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় নতুন করে উত্তপ্ত বাংলাদেশের রাজনীতি। ইউনূস সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, দূরে থেকেও মাটি আঁকড়ে আছেন। এবার তাঁর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী মোড় আনে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা উপমহাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *