দুর্গাপুরে CMERI-এর প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বড় পদক্ষেপ অগ্নিমিত্রা পালের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,দুর্গাপুর: রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ আমল শুরু হতেই পরিবেশ দূষণ রোধ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড়সড় উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার রাজ্যের জমে থাকা টন টন বর্জ্য বা আবর্জনা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্রীয় সংস্থা সিএমইআরআই-এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চলেছে রাজ্য। শুক্রবার দুর্গাপুরে ‘সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ পরিদর্শনে গিয়ে এই মেগা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এদিন মন্ত্রী গোটা ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখার পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বর্জ্যকে কীভাবে পুনর্ব্যবহার করে নতুন জিনিস উৎপাদন করা সম্ভব, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ভাঙা বাড়ির বর্জ্য দিয়ে তৈরি হবে সস্তার ইট, কাজে লাগবে পুরসভায়
রাজ্যে সরকারি পালাবদলের পর থেকেই বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে দিকে দিকে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ দেখা যাচ্ছে। এবার সেই ভাঙা ইমারতের বর্জ্য বা স্ক্র্যাপকেও সম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়েছে নগরোন্নয়ন দপ্তর। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, “ভাঙা বাড়ি ও নির্মাণের বর্জ্য থেকে তুলনামূলক কম খরচে বিকল্প ইট তৈরি করা হবে। এই প্রযুক্তি রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় কাজে লাগানো হবে। কোনও বহুতল বা ইমারত তৈরির কাজে এই ইট ব্যবহার করা না গেলেও, যে কোনও ধরনের ফেন্সিং বা বাউন্ডারি (পাঁচিল) দেওয়ার কাজে এই সস্তার ইট দারুণভাবে ব্যবহার করা যাবে।”
বর্জ্য থেকে মিলবে জ্বালানি ও জৈব সার
পরিবেশ বান্ধব বাংলা গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়ে পুরমন্ত্রী আরও জানান, শুধু নির্মাণের বর্জ্যই নয়, আরও একাধিক প্রযুক্তিকে পুরসভা স্তরে নামানো হচ্ছে। যেমন:
-
প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি হবে গাড়ি বা কলকারখানার বিকল্প জ্বালানি।
-
জৈব বর্জ্য থেকে তৈরি করা হবে উন্নত মানের সার।
-
শুকনো পাতা ও ডালপালা প্রক্রিয়াকরণ করে তৈরি হবে বিকল্প জ্বালানি।
কেন্দ্রের প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেয়নি পূর্বতন সরকার: তোপ অগ্নিমিত্রার
বিগত সরকারের আমলকে নিশানা করে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “অতীতে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের গবেষণা ও প্রযুক্তিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি স্পষ্ট জানান, এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেবে রাজ্য সরকার, আর সিএমইআরআই দেবে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা। প্লাস্টিক, ধাতু, জৈব এবং নির্মাণের বর্জ্য আলাদা করে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ যেমন একধাক্কায় কমবে, তেমনই পুরসভাগুলির রাজস্ব আয়ের এক নতুন দিশা তৈরি হবে।
ইতিমধ্যেই নগরোন্নয়ন দপ্তরের পক্ষ থেকে সিএমইআরআই-কে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রগুলিতে খুব দ্রুত এই কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি রূপায়ণের কাজ শুরু হতে চলেছে।
