Kunal-Mamata-Abhishek : মমতার সামনেই ধুন্ধুমার, কর্মসমিতির বৈঠকে অভিষেক-কুণাল তুমুল বাদানুবাদ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- তৃণমূলের অন্দরের ফাটল ফের প্রকাশ্যে। গতকাল ১৩ই জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কর্মসমিতির বৈঠকে তাঁর সামনেই চরম বাদানুবাদে জড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ। সূত্রের খবর, সাংগঠনিক রদবদল ও সুমিত রায়কে নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় বৈঠক। পরিস্থিতি সামলাতে শেষে হস্তক্ষেপ করতে হয় তৃণমূল নেত্রীকে।
জানা গেছে, সাংগঠনিক রদবদলের জন্য গতকাল কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা হয়। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্তর কলকাতার সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে কুণাল ঘোষকে ওই পদে বসানো হয়। সূত্রের খবর, সুদীপ সম্প্রতি দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক করেছিলেন।
বৈঠক শেষের পরেই রদবদল নিয়ে অভিষেকের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান কুণাল। কুণাল দ্রুত সংগঠনের একটি বিষয়ে পদক্ষেপের দাবি করেন। কিন্তু অভিষেক বলেন, বিষয়টি পরে দেখা হবে।
সূত্রের খবর, পাল্টা অভিষেক অভিযোগ তোলেন সুমিত রায় সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমে বিরূপ বিবৃতি দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। কুণাল তা মেনে নিয়ে বলেন, ১০০ শতাংশ বলেছি। কারণ সুমিত রায় দলের কেউ নন এবং তাকে কোনভাবেই আমি দলের তরফে বিবৃতি দিয়ে ডিফেন্ড করতে পারব না। তবে আমি তোমার সম্পর্কে কোনও বিরূপ মন্তব্য করিনি। কিন্তু অভিষেক দাবি করেন, কুণাল তাঁর সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এ নিয়েই দু’জনের কথা কাটাকাটি চরমে ওঠে।
উচ্চস্বরে বাদানুবাদ চলায় পরিস্থিতি সামলাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উঠে আসতে হয়। তিনি দু’জনকেই বলেন, এখন মাথা ঠান্ডা করে কাজ করতে হবে। সূত্রের খবর, কুণাল ঘোষ মমতাকেও জানিয়ে দেন যে সুমিত রায়কে সমর্থন জানিয়ে তিনি কোনও বিবৃতি দিতে পারবেন না। এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও দু’জনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ভোটে বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছিলই। সাংগঠনিক রদবদল ঘিরে অভিষেক-কুণাল সংঘাত প্রকাশ্যে চলে আসায় সেই ফাটল আরও চওড়া হল। জানা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই দুই শীর্ষ নেতার এই বাদানুবাদ তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েনকেই সামনে এনে দিল।
