আজকের দিনেবাংলার আয়না

ভিড়ে ঠাসা দার্জিলিং! পর্যটন-মরশুমে পড়ুয়াদের জন্য ‘মাস্টারস্ট্রোক’ পাহাড়ে?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দার্জিলিং: তীব্র গরম পড়তেই বাঙালির প্রথম পছন্দ শৈলশহর দার্জিলিং। কিন্তু পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে এখন কার্যত কোণঠাসা পাহাড়ের স্বাভাবিক জনজীবন! কেভেন্টার্সের মোড় থেকে ঘুম স্টেশন— সর্বত্রই এখন যেন কলকাতার গড়িয়াহাটের চেনা ভিড়। আর এই বেলাগাম পর্যটনের জেরে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে পাহাড়ের স্কুলপড়ুয়াদের। যানজটের জেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকছে খুদেরা। এই চিলড্রেন-ক্রাইসিস রুখতে এবার ‘ত্রাতা’র ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)। শুধুমাত্র স্কুলপড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ট্রেন চালু করতে চলেছে তারা।

 যানজটের জাঁতাকলে শৈশব: ৮ কিমিতে লাগছে ৩ ঘণ্টা!

ঘুম থেকে দার্জিলিংগামী মূল রাস্তার আশেপাশে প্রায় ২০টি সরকারি ও বেসরকারি স্কুল রয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ:

  • সকালে পর্যটকরা যখন সূর্যোদয় দেখে ফিরছেন, তখন খুদেদের স্কুলে যাওয়ার সময়।

  • আবার বিকেলে যখন হাইস্কুলের পড়ুয়ারা বাড়ি ফিরছে, তখন পর্যটকদের ভিড় জমছে সূর্যাস্ত দেখতে।

  • এর ফলে মাত্র ৮ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতেই সময় লেগে যাচ্ছে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা!

  • প্রতিদিন ক্লাসে ঢুকতে দেরি হচ্ছে পড়ুয়াদের, বাদ যাচ্ছে মর্নিং প্রেয়ার। যানজটের ভয়ে অনেকে স্কুল কামাই করতেও বাধ্য হচ্ছে।

নো ইউনিফর্ম, নো এন্ট্রি: DHR-এর মাস্টারস্ট্রোক

বারবার প্রশাসনের দ্বারে কড়া নেড়েও যখন সমাধান মেলেনি, তখন বড়সড় পদক্ষেপ নিল DHR। আগামী সপ্তাহ থেকেই দিনে দু’বার ট্র্যাকে নামবে এই বিশেষ ‘স্কুল স্পেশাল’ টয়ট্রেন।

DHR-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, “প্রশাসনের অনুরোধে পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। সকালে স্কুল শুরুর আগে প্রথম ট্রেনটি ছাড়বে ঘুম স্টেশন থেকে। আবার বিকেলে স্কুল ছুটির পর দার্জিলিং থেকে সেটি ঘুমে ফিরে আসবে। এই ট্রেনে স্কুল ইউনিফর্ম ছাড়া অন্য কোনো যাত্রী উঠতে পারবেন না।” জানা গেছে, ভাড়া এখনো চূড়ান্ত না হলেও, পড়ুয়াদের পকেটের কথা ভেবে ভাড়ায় থাকছে বিশেষ ছাড়। খুব দ্রুতই এর অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

 ‘একটি ট্রেন কি যথেষ্ট?’ উঠছে প্রশ্ন

DHR-এর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)। GTA-এর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শক্তিপ্রসাদ শর্মার মতে, শুধুমাত্র পর্যটকদের গাড়ি নয়, পর্যটন মরশুমে ঘনঘন টয়ট্রেন পাস করানোর ফলেও রাস্তায় যানজট বাড়ে।

তাঁর দাবি, একটিমাত্র ট্রেন দিয়ে এই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার সমস্যা কতটা মিটবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুটি পর্যটকবাহী টয়ট্রেনের মাঝের সময়ের ব্যবধান বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

আপাতত, আগামী সপ্তাহ থেকে নীল রঙের এই ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেন পাহাড়ের খুদে পড়ুয়াদের মুখে চওড়া হাসি ফোটায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে শৈলশহর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *