আজকের দিনেবাংলার আয়না

৪৫ লক্ষ টাকা ও সরকারি চাকরির লোভে প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে নিজের মা-কেই খুন করল কিশোরী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,রাঁচি: টাকার নেশা আর ভালোবাসার টান যে মানুষকে কতটা অন্ধ করে দিতে পারে, ঝাড়খণ্ডের রাঁচির ঘটনা তার প্রমাণ। ৪৫ লক্ষ টাকা এবং একটি সরকারি চাকরির লোভে নিজের মা-কে খুনের অভিযোগ উঠল এক নাবালিকা মেয়ের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরী, তার প্রেমিক এবং তাদের আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

খুনের নেপথ্যে বিপুল সম্পত্তি

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম নহিদা পারভিন। রাঁচির মানিটোলার বাসিন্দা নহিদার স্বামী বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মী ছিলেন। চার বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা এবং একটি চাকরি পান নহিদা। তাঁর ১৭ বছর বয়সী দত্তক মেয়ে এই বিপুল পরিমাণ টাকার কথা জানত। তদন্তে জানা গিয়েছে, কিশোরী মাঝেমধ্যেই মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে তার প্রেমিক আরবাজকে দিত। নহিদা বিষয়টি বুঝতে পেরে মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকসেস বন্ধ করে দেন। এর পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি। কিশোরী পরিকল্পনা করে, মা-কে সরিয়ে দিতে পারলে সমস্ত টাকা, সম্পত্তি এবং সরকারি চাকরিটা সে নিজেই পাবে।

খুনের রোমহর্ষক বিবরণ

গত ২৪ এপ্রিল রাতে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।  নহিদা যখন ঘুমোচ্ছিলেন, তখন বালিশ চাপা দিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। কিশোরী ও তার প্রেমিক আরবাজ এই কাজে তাদের বন্ধুদের সাহায্য নেয়। বিনিময়ে বন্ধুদের ১২ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। খুনের পর দেহটি একটি ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরদিন সকালে কিশোরী আত্মীয়দের ফোন করে জানায়, তার মা বাথরুমে পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছেন।

সন্দেহ ও পুলিশের পদক্ষেপ

নহিদার শেষকৃত্য তড়িঘড়ি সম্পন্ন করা হলেও মৃতার গলার ক্ষত দেখে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। এর পরেই নহিদার দেওর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুলিশ কবর থেকে দেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। রিপোর্টে শ্বাসরোধ ও আঘাতের চিহ্ন মেলায় পুলিশ কিশোরী ও তার প্রেমিককে আটক করে।

জেরার মুখে অভিযুক্তরা অপরাধ কবুল করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার গলার নলি কাটারও চেষ্টা করা হয়েছিল এবং সেই কারণেই অতিরিক্ত রক্তপাত হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত চারজনই পুলিশের হেফাজতে। নিজের পালিত মেয়ের এমন হাড়হিম করা আচরণে স্তম্ভিত রাঁচির বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *