ইরানের যুদ্ধ থামলে কমবে কি অপরিশোধিত তেলের দাম ? কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা ?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জালালি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল পিছু দাম অনেক বৃদ্ধি হয়েছে এই সংঘাত আবহে । এরই মধ্যে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন আগামী দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে সামরিক অভিযানে ইতি পড়তে পারে । কিন্তু প্রশ্ন যুদ্ধ থেমে গেলেই কি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত কমবে ?
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের দাবি যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হলেও দ্রুত অপ্রচলিত তেলের দাম কমবে না । কারণ জ্বালানি তেলের বাজার শুধু যুদ্ধ থামার উপর নির্ভর করে না। এর পিছনে সরবরাহ চাহিদা এবং ভু রাজনৈতিক বাস্তবতাও নির্ভর করে । বিশ্বের প্রায় কুড়ি শতাংশ জ্বালানি তেল পারাপার করা হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে । যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ আংশিকভাবে বন্ধ আছে । অনেক তেলবাহী জাহাজ মাঠ সমুদ্রে আটকে আছে । হরমুজ স্বাভাবিক হলেও তারা গন্তব্যে পৌঁছে যাবে তাই বলে এই পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যাবে না । এর পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ আছে। প্রতিটি জাহাজের চালান এর সঙ্গে যুক্ত থাকে শিপিং চুক্তি বীমা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা । যুদ্ধের পরে এইসব শর্ত নতুন করে ঠিক করতে হয় কারণ ঝুঁকি বেশি হলে বিমার খরচও বাড়ে । যার ফলে তেল পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পায় । পরিস্থিতি শান্ত হলে এই খরচ গুলি কমবে তবে অপরিশোধিত তেলের দাম স্বাভাবিক হতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগতে পারে । এছাড়া কাতারের গ্যাস প্রকল্প ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরবের রিফাইনারি সব জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরোপুরি মেরামত করে স্বাভাবিক করতে বেশ খানিকটা সময় লাগতে পারে । বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই আবহে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম । মনে করা হচ্ছে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ছয় থেকে নয় মাস তেলের বাড়তি দাম গুনতে হবে দেশগুলিকে । তারপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে ।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক মাস ক্রুড অয়েলের দাম ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, দাম তত বেশি সময় ধরে উঁচুতে থাকবে।
