আজকের দিনেবাংলার আয়না

পরকীয়া ঢাকতে তান্ত্রিক স্বামীকে খুন স্ত্রীর, ধৃত ৫

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, শিলিগুড়িঃ বাগডোগরার চা বাগান থেকে মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই নিজের ১০ বছরের বিবাহিত স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করলেন স্ত্রী! পরিচয় আড়াল করতে প্রেমিকের সহযোগিতায় দেহ থেকে মাথা কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রী ও তার প্রেমিক-সহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ি সংলগ্ন বাগডোগরায়।

চায়ের পাতায় ঢাকা ছিল মুণ্ডুহীন দেহ

গত মঙ্গলবার বাগডোগরার হাঁসখোয়া চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনে পাতা তোলার সময় একটি মুণ্ডুহীন ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ দেখতে পান শ্রমিকরা। খবর পেয়ে বাগডোগরা থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক‌্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মৃত ব্যক্তির নাম ইমাম এবং তিনি পেশায় একজন তান্ত্রিক ছিলেন। বিহারের কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা ইমামের শ্বশুরবাড়ি শিলিগুড়িতে।

৭ বছরের পরকীয়া, স্বামীকে সরাতে ছক

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের স্ত্রী মমিনা বেগমের সঙ্গে বাগডোগরার বাসিন্দা তথা অপর এক তান্ত্রিক সুদীপ পালের গত ৭ বছর ধরে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সেই পরকীয়ার কাঁটা সরাতেই স্বামীকে খুনের নীল নকশা তৈরি করে মমিনা ও সুদীপ।

সম্পর্কের সূত্র ধরে গত সোমবার বিকেলে ফোন করে ইমামকে বিহার থেকে বাগডোগরায় ডেকে পাঠায় সুদীপ। এরপর সুদীপ, তার দুই ভাগ্নে নিতাই পাল ও বাপি পাল এবং ভাগ্নের বন্ধু কৌশিক নাথ মিলে ইমামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। দেহটি যাতে কেউ চিনতে না পারে, তার জন্য ধড় থেকে মাথা কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়।

৫ কিলোমিটার দূর থেকে উদ্ধার কাটা মাথা

তদন্তে নেমে পুলিশ ওই কাটা মাথার খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে খুনের ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ফাঁসিদেওয়ার মুন্সিবাড়ি এলাকা থেকে একটি কাটা মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক অনুমান, এটি নিহত ইমামেরই মাথা, তবে নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হতে পারে।

ধৃতদের পুলিশ হেফাজত

বৃহস্পতিবার ধৃত ৫ জনকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটির সন্ধান চালাচ্ছে বাগডোগরা থানার পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত জারি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *