বিশ্বআজকের দিনেখেলাতিলোত্তমাবাংলার আয়নাভারত

Virat Kohli : শুভ জন্মদিন কিং কোহলি! ৩৮-এ পা দিলেন বিরাট, একনজরে চেজ মাস্টারের মহাকাব্যিক সফর

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- আজ ৫ নভেম্বর (Virat Kohli)। ভারতীয় তথা বিশ্ব ক্রিকেটের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র বিরাট কোহলির জন্মদিন। শচিন টেন্ডুলকারের যোগ্য উত্তরসূরি থেকে ‘কিং কোহলি’ হয়ে ওঠা — দিল্লির সেই ছোট্ট ছেলেটার গল্পটা এখন কিংবদন্তি। আজ তিনি ৩৮-এ পা দিলেন, তাও শুধু ওয়ানডে ক্রিকেটকে সঙ্গী করে (Virat Kohli)। বিরাটের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৫ নভেম্বর দিল্লিতে। তার বাবা প্রেম নাথ কোহলি পেশায় একজন উকিল ছিলেন আর মা সরোজ কোহলি ছিলেন একজন গৃহবধূ (Virat Kohli)। বিরাটরা মোট তিন ভাই বোন, দাদা বিকাশ আর দিদির নাম ছিল ভাবনা। রাজকুমার শর্মা ছিলেন বিরাটের ছোটবেলার কোচ, তার হাত ধরে ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয় ছোট্ট বিরাটের। শচীন টেন্ডুলকার ছিলেন (Virat Kohli) ক্রিকেটের অনুপ্রেরণা।

 

২০০২-২০০৩ সালের পলি উমরিগড় ট্রফির অনূর্ধ্ব ১৫ দিল্লি (Virat Kohli) দলে তিনি নির্বাচিত হন এবং প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কার পান। তাকে পুরস্কার হাতে তুলে দিয়েছিলেন ভারতের বিখ্যাত ফাস্ট বোলার আশীষ নেহরা। ২০০৬ সালে দিল্লির রঞ্জি ট্রফির দলে বিরাট কোহলি প্রথম সুযোগ পান (Virat Kohli)। সেখানে তার বীরেন্দ্র সেওয়াগ, গৌতম গম্ভীর ও আশীষ নেহরার মত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। দিল্লি দলে বিরাটের সব থেকে ভালো বন্ধু ছিলেন ইশান্ত শর্মা। যিনি পরে জাতীয় দলে অভিষেক করেছিলেন। ২০০৬ সালের রঞ্জি ট্রফির একটি ম্যাচ চলাকালীন বিরাট কোহলির বাবার মৃত্যু হয় (Virat Kohli)। বাবার মরদেহ দাহ করে পরের দিন বিরাট ম্যাচ খেলতে আসেন এবং সেই ম্যাচে ৯০ রান করে তার দল দিল্লিকে ম্যাচের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। বাবার মৃত্যুশোক চেপে রেখে পরের দিন ক্রিকেটের মাঠে ফেরা বুঝিয়ে দিয়েছিল ক্রিকেটের প্রতি বিরাটের (Virat Kohli) দায়বদ্ধতা। বিরাটের বাবা সব সময় চাইতেন তার ছেলে ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলুক।

Virat Kohli

রঞ্জি ট্রফিতে বিরাটের খেলা দেখে জাতীয় নির্বাচকরা বুঝতে পারেন যে বিরাটের (Virat Kohli) মধ্যে ভবিষ্যতের তারকা ক্রিকেটার হওয়ার সব রকম সম্ভাবনা রয়েছে। তাকে নেতৃত্বে রেখে ভারতের ২০০৮ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করা হয়। সে বিশ্বকাপে একটি সেঞ্চুরি সহ ২৩৫ রান করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হন (Virat Kohli)। এবং ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বিরাটের পারফরমেন্স দেখে ২০০৮ সালের আইপিএল নিলামে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর তাদের দলে সামিল করে। সেখান থেকে আজও অবধি তিনি আরসিবির হয়ে (Virat Kohli) আইপিএল-এ খেলে চলেছেন।

 

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৮ সালে বিরাটের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে (Virat Kohli) অভিষেক হয়। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সুযোগ আসে ২০১০ সালে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে এবং টেস্ট অভিষেক হয় ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। বিরাটের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে সেঞ্চুরি আসে ২০০৯ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (Virat Kohli)। সেই ম্যাচে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর কিন্তু বিরাট প্রথম সেঞ্চুরি করায় তিনি তার পুরস্কার বিরাটকে দিয়েছিলেন তার উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে। ২০১১ সালে ভারত যেবার ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জয় করে সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন কোহলি। তার ব্যাট থেকে এসেছিল মোট ২৮২ রান (Virat Kohli)। যার মধ্যে একটি সেঞ্চুরি ছিল। ফাইনাল ম্যাচে তার ৩৫ রান বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।

Virat Kohli

২০১৩ সালে প্রথমবার তিনি ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের আইসিসি র্যােঙ্কিংয়ের (Virat Kohli) প্রথম স্থানে পৌঁছে যান। ২০১৩ সালে বিরাটের আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর তাকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয় (Virat Kohli)। ২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির টেস্ট অবসর গ্রহণের পর কোহলি টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পান। ২০১৭ সালের প্রথম দিকে, ধোনি অধিনায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করার পরে তিনি ওয়ানডেতেও অধিনায়ক হন। ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০,০০০, ১১,০০০, ১২,০০০, ১৩,০০০, ১৪,০০০ এবং ১৫,০০০ রানের রেকর্ডটি তারই করা (Virat Kohli)। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে পরপর দুটো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন।

 

এরপর পরপর বিদেশ সফরে বিরাটের ব্যাট থেকে একাধিক ১০০ রানের ইনিংস আসে এবং টেস্ট ক্রিকেটে বিরাটের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হয় (Virat Kohli)। সময় ক্রমে তার দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রতিভার দৌলতে বিরাট হয়ে ওঠেন বিশ্ব ক্রিকেটের এক মহীরুহ। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ভারত ফাইনালে হেরে গেলেও বিরাট ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন (Virat Kohli)। বিরাটের ব্যাট থেকে গোটা টুর্নামেন্টে আসে ৭৬৫ রান। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ নক আউট পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোহলি তার ৫০ তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ (Virat Kohli) করে ওডিআই ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হন ।

Virat Kohli

২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি (Virat Kohli) থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ফাইনালে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৭৬ রানের ঝকঝকে একটি ইনিংস। ২০২৫ সালে আসে আরও দুটি বড় মাইলস্টোন (Virat Kohli)। প্রথমে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১০০ রান করে তিনি দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৪,০০০ ওয়ানডে রান পূর্ণ করেন। সেই টুর্নামেন্টে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়, ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে। এটা ছিল বিরাটের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, প্রথমটি ২০১৩ সালে (Virat Kohli)। তারপর ২০২৫ সালের ৩ জুন, ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান। পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে প্রথমবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় আরসিবি। ১৮ বছর ধরে একই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলা বিরাটের হাতে ওঠে সেই কাঙ্ক্ষিত ট্রফি (Virat Kohli)। কিন্তু তার ঠিক আগেই, ২০২৫ সালের ১২ মে, ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন বিরাট। টেস্ট কেরিয়ার শেষ করেন ১২৩ ম্যাচে ৯,২৩০ রান, ৩০টি সেঞ্চুরি ও ৭টি ডাবল (Virat Kohli) সেঞ্চুরি নিয়ে।

 

২০২৬-এও থামেননি বিরাট (Virat Kohli)। আইপিএল ২০২৬ ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৭৫ রান করে আরসিবিকে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন করেন। গোটা মরশুমে করেন ৬৭৫ রান। এখন শুধু ওয়ানডে খেলেন তিনি। আর সেখানেও রেকর্ডের বন্যা। মোট ৮৬টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি — ওয়ানডেতে ৫৫টি, যা বিশ্বরেকর্ড (Virat Kohli)। ২০২৬-এ দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৫,০০০ ওয়ানডে রান পূর্ণ করেছেন। আইপিএল-এও সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। বিরাট নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, (Virat Kohli) ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। শচিনের ১০০ সেঞ্চুরির রেকর্ড থেকে এখনও ১৪টি দূরে তিনি। কোটি কোটি ভক্তের স্বপ্ন — ২০২৭-এ দ্বিতীয়বার ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জিতে কেরিয়ার শেষ করবেন কিং কোহলি। (Virat Kohli) শুভ জন্মদিন, চেজ মাস্টার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *