Shantipur : ট্রেনে চেপে ১১৭ কিমি পাড়ি, দীপাবলির আগেই মুর্শিদাবাদে পৌঁছলেন শান্তিপুরের শ্বেতশুভ্র নিত্যকালী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- হাতে আর মাত্র ক’টা দিন। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা, (Shantipur) দিকে দিকে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। এই আবহেই গন্তব্যে পৌঁছনোর অপেক্ষায় শান্তিপুরের নিত্যকালী। কিন্তু অপেক্ষা কীসের? শিল্পী বলছেন, (Shantipur) মা’কে যে যেতে হবে বহুদূরে। ট্রেনে চেপে মা কালী যাবেন নিমতিতায়। রেলপথে শান্তিপুর থেকে মুর্শিদাবাদের নিমতিতার দূরত্ব ১১৭ কিলোমিটার। তাই নির্দিষ্ট দিনে ট্রেন ধরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন নিত্যকালী। মঙ্গলবার অবশেষে সেই সুদিন এল (Shantipur)। দুপুরে কালনা স্টেশনে নিত্যকালী ট্রেনে করে রওনা দেন মুর্শিদাবাদের নিমতিতার উদ্দেশে।
নদিয়ার শান্তিপুরের শিল্পী শুভজিৎ দে-র হাতে তৈরি কালী মূর্তি হাওড়া-মালদহ (Shantipur) টাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়েই পাড়ি দিল মুর্শিদাবাদ জেলার নিমতিতায়। সংবাদমাধ্যমকে শিল্পী জানান, শান্তিপুরের শ্যামচাঁদপাড়া এলাকায় কারখানা রয়েছে তাঁর (Shantipur)। অনলাইনে মুর্শিদাবাদের নিমতিতার বাসিন্দা অয়নাংশু বিশ্বাস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গতবছরেও তিনি এই একই ঘরানার ঠাকুর নিয়েছিলেন। এবছরও একই ঠাকুরের বরাত এসেছে নিমতিতা থেকে।
শান্তিপুরের নিত্যকালী ঘরানার (Shantipur) ঠাকুরের আলাদা কদর রয়েছে। শ্বেতশুভ্র গায়ের রং, শান্ত স্নিগ্ধ মুখশ্রী আর নিখুঁত কারুকার্য এই প্রতিমাকে অন্যান্য কালী প্রতিমা থেকে আলাদা করে তোলে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে এই ঘরানার ঠাকুরের বরাত আসে শান্তিপুরের (Shantipur) শিল্পীদের কাছে। শুভজিৎবাবু জানান, শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকেও এই সময়ে তাঁর কাছে অর্ডার আসে।
এদিন কালনা স্টেশনে প্রতিমা পৌঁছতেই ভিড় জমে যায় (Shantipur)। ট্রেনে তোলার আগে শ্বেতশুভ্র মা কালীকে দেখে প্রণাম ঠুকে নেন অনেক যাত্রী ও স্থানীয়রা। সকলেই ক্যামেরাবন্দি করেন এই বিরল মুহূর্তকে। সাবধানে, বিশেষ ব্যবস্থায় প্রতিমাকে ট্রেনের কামরায় তোলা হয়, যাতে কোনও ক্ষতি না হয় (Shantipur)। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মা পৌঁছে যাবেন তাঁর গন্তব্যে, সেখানেই হবে তাঁর আরাধনা।
দীপাবলির আগে এইভাবে ট্রেনে করে প্রতিমা যাওয়ার ঘটনা এখন শান্তিপুর-কালনা এলাকায় পরিচিত ছবি হয়ে উঠেছে (Shantipur)। শিল্পীরা বলছেন, অনলাইনের দৌলতে এখন দূরের ক্রেতারাও সহজেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। আর তাতেই শান্তিপুরের শিল্পের পরিধি ছড়িয়ে পড়ছে জেলার গণ্ডি পেরিয়ে। এত দূরে কেন অর্ডার দিলেন? (Shantipur) এ প্রশ্নের উত্তরে শিল্পী জানান, “নিত্য কালী ঘরানার এই ধরনের ঠাকুর কেবলমাত্র শান্তিপুরে ভালো তৈরি হয়।” তাই তিনি গত দু’বছর ধরে এই অর্ডার পাচ্ছেন (Shantipur)। শ্বেতশুভ্র মা কালীকে কালনা স্টেশন চত্বরে দেখে প্রণাম ঠুকে নেন অনেকেই।
