আজকের দিনেবিশ্ব

Donald Trump: দাবানলের ধোঁয়াজনিত দূষণে কানাডার ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার দাবানলের ধোঁয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বায়ুদূষণ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে কানাডার ওপর আরও বেশি শুল্ক (Tariff) আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এই মন্তব্যের জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

কী বলেছেন ট্রাম্প?

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, কানাডা তাদের বনাঞ্চল যথাযথভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে প্রতিবছর ভয়াবহ দাবানল হচ্ছে এবং সেই ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, এই দূষণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে এবং এর “মূল্য” কানাডাকে দিতে হবে। তাই বর্তমানে কানাডার ওপর যে শুল্ক রয়েছে, তার সঙ্গে আরও অতিরিক্ত শুল্ক যোগ করার হুমকি দেন তিনি।

কেন এই বিতর্ক?

কানাডায় চলমান শত শত দাবানলের ধোঁয়া বাতাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বহু এলাকায় পৌঁছে গেছে। নিউইয়র্ক, শিকাগো, ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন ডিসি-সহ একাধিক শহরে বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাডার প্রতিক্রিয়া

কানাডা ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২০ সাল থেকে দাবানল প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় প্রায় ১২ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, দাবানল মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই যৌথভাবে কাজ করে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

বন ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর আমেরিকায় দাবানলের তীব্রতা ও বিস্তার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া। তাঁদের মতে, এ ধরনের সমস্যা শুধু একটি দেশের বন ব্যবস্থাপনার কারণে নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর পরিবেশগত সংকট, যার সমাধানে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সম্ভাব্য প্রভাব

ট্রাম্প যদি সত্যিই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব অটোমোবাইল, কাঠ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *