কাউন্সেলিং –এ এগিয়ে এআই, ডিপ্রেশন থেকে জীবনের ঝুঁকি কি এবার কমবে?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতাঃ বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এআই অনেকটাই জায়গায় করে নিয়েছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে শুতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে আমরা অনায়াসেই এর ব্যবহার করে থাকি। শুধু তাই নয়। জীবনের বিভিন্ন ওঠা-পড়া, ইমোশন যেমন- একাকীত্ব, ডিপ্রেশন বা টাইমপাশ সব কিছুতেই এআই সঙ্গ দিচ্ছে। এক নিমেশে বুঝে যাচ্ছে আপনার মনের অবস্থার কথা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের কথা বলা বা আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিখুঁতভাবে ধরতে পারে। মানুষের অজান্তেই তার মানসিক অবস্থা বুঝতে পারা এখন আর অসম্ভব নয়।
এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে এখন ডিপ্রেশন, অ্যানজ়াইটি বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের মতো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। গলার স্বর এবং কথা বলার ধরন বিশ্লেষণ করে রোগের পূর্বাভাস দিয়ে দিতে পারে।
Woebot বা Wysa-র মতো এআই চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টাই কথা বলতে প্রস্তুত। এগুলো মূলত ‘কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি’ (CBT) ব্যবহার করে মানুষের নেতিবাচক চিন্তার ধরনকে বদলে দিতে সাহায্য করে। বর্তমানে একাকীত্ব কাটাতে বা প্রাথমিক স্বস্তির জন্য এটি এক অনন্য সমাধান হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই সমাজের ভয়ে বা অর্থের অভাবে থেরাপিস্টের কাছে যেতে কুণ্ঠাবোধ করেন। তারা নামহীন বা অজ্ঞাত পরিচয়ে নিজের সমস্যার কথা এআই-এর কাছে প্রকাশ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে মোবাইলেই প্রাথমিক কাউন্সিলিং সেরে নিচ্ছেন অনেকেই।
মস্তিষ্কের এম আর আই বা এফ এম আর আই স্ক্যান বিশ্লেষণ করে একজন ব্যক্তি কতটা সুস্থ রয়েছেন, তা বুঝতে সাহায্য করছে এআই। ডিপ লার্নিং অ্যালগরিদম মস্তিষ্কের এমন সব সূক্ষ্ম পরিবর্তন শনাক্ত করে, যা সাধারণত মানুষের চোখে ধরা পড়ে না। এর ফলে পিটিএসডি-র মতো জটিল সমস্যা ধরা পড়া এখন আরো সহজ হয়ে গেছে।
এমনকি হাতের স্মার্টওয়াচ বা স্মার্টফোনটি এখন আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা বুঝতে সক্ষম। ঘুমের ধরন, হৃদস্পন্দন এবং শারীরিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে এাই বুঝতে পারে আপনি মানসিকভাবে ঠিক কতটা চাপে রয়েছেন।
এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা বার্তার ধরন বিশ্লেষণ করে কেউ চরম পদক্ষেপ নিতে চলেছেন কি না, তাও বুঝতে পারে এআই। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই কখনোই একজন রক্ত-মাংসের মনোবিদের জায়গা পুরোপুরি নিতে পারবে না। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভরতা নিয়ে কিছু ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে মানসিক চিকিৎসায় এআই বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
