আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

TMC : শিবসেনা – এনসিপির পথ অনুসরণ এর পথে তৃণমূলের একাংশ !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:-রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বিধায়ক বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে হাজির মাত্র ২০ জন। এক চতুর্থাংশ উপস্থিতি আর ভাইপো-বিরোধিতার আবহে জোর জল্পনা— বিদ্রোহী বিধায়করা কি ‘অন্য তৃণমূল’ গড়তে পারেন? উদ্ধব ঠাকরে বা শরদ পাওয়ারের মতো দল হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা কি মমতারও?

সূত্রের খবর, দলের ঠিক করা বিরোধী দলনেতার নামও খারিজ করতে পারেন বিধায়কদের একাংশ। ভোটে ভরাডুবির পর প্রকাশ্যে এসেছে ক্ষোভ। এন্টালির বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলছেন, “দল এমন ব্যবস্থা করছে যাতে প্রত্যেক বিধায়ককে মানুষ সন্দেহের চোখে দেখে।” উলুবেড়িয়া পূর্বের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “দুর্নীতির হুইসলব্লোয়ারের কাজ করব। যা জানি সরকারকে লিখব।”

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, বিদ্রোহীরা কি দল ভেঙে আলাদা গোষ্ঠী গড়ে নিজেরাই ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করতে পারেন?

দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও দলের বিধায়ক বা সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশ যদি আলাদা গোষ্ঠী গড়েন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইন কার্যকর হয় না। তাঁরা আলাদা দল বা অন্য দলে মিশে যেতে পারেন।

অধ্যাপক ঊর্বি দাসের ব্যাখ্যা, “তৃণমূলের ৮০টি আসনের মধ্যে ৫৩টি আসন দরকার হবে। দুই-তৃতীয়াংশ অঙ্কটা পেতে গেলে ৫৩ জন লাগবে। ৫৩ জন আলাদা হয়ে এলে স্পিকার তাঁদের স্বীকৃতি দিতে পারেন। তখন তাঁরাই মূল বিরোধী দল হিসেবে দাবি করতে পারেন।”

অর্থাৎ ৮০ জনের মধ্যে ৫৩ জন বিদ্রোহী এককাট্টা হলে ‘অন্য তৃণমূল’ গঠন আইনসিদ্ধ। স্পিকার চাইলে তাঁদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে মান্যতা দিতে পারেন। সংখ্যা ৫৩-র কম হলে দলত্যাগ আইনে পদ খারিজের ঝুঁকি থাকবে।

মহারাষ্ট্রে বাল ঠাকরের শিবসেনা ছেলে উদ্ধবের হাত থেকে নিয়ে নিয়েছেন একনাথ শিন্ডে। শরদ পাওয়ারের তৈরি এনসিপিও এখন অজিত পাওয়ারের দখলে। অন্ধ্রে এনটি রামা রাওয়ের টিডিপি জামাই চন্দ্রবাবু নায়ডু নিজের করে নিয়েছিলেন। রাজনীতিতে দল ভাঙা নতুন নয়।

মমতা নিজে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়েছিলেন। ক্ষমতায় থেকে কংগ্রেস-সিপিএম ভাঙিয়ে জেলা পরিষদ, পুরসভা দখল করেছেন। এবার তাঁর দলেই ভাঙনের সুর। ২০ জনের বৈঠক আর ৬০ জনের গরহাজিরা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ৫৩ জন জোট বাঁধলে ‘অন্য তৃণমূল’ শুধু জল্পনা থাকবে না, বাস্তব হতে পারে। উত্তর দেবে সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *