Suvendu Adhikari : ধর্মতলায় পুলিশ-সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় প্রথমবার গুন্ডাদমন আইন, ‘৩ পুরুষ মনে রাখবে’ হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টির মিছিলে তুমুল বিশৃঙ্খলা ও পুলিশ-সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে মামলা রুজু হবে। ইতিমধ্যেই ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ‘এমন ব্যবস্থা করব, ৩ পুরুষ মনে রাখবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে মিছিল ও জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়। অভিযোগ, প্রতিবাদের নামে কার্যত ‘জঙ্গিপনা’ চলে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তা দখল করে, পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছোড়ে। ঘটনাস্থলে কর্মরত সাংবাদিকদেরও হেনস্তা করা হয়।
এই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ৬টি ও এন্টালি থানায় ১টি মোট ৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে। মামলায় বেআইনি জমায়েত, সরকারি কাজে বাধা, রাস্তা অবরোধ, উসকানি সহ একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে এই প্রথমবার ধর্মতলার ঘটনায় গুন্ডাদমন আইন যুক্ত হল।
শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় বলেন, “এখনও পর্যন্ত মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁরা একজনও ছাত্র নন। ককরোচ পার্টির সদস্য নন। ককরোচ সমর্থকদের ভিড়ে মিশে যাওয়া বহিরাগতরাই এই বিশৃঙ্খলা করেছে।” তিনি আরও বলেন, রাজাবাজারের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিন, একবালপুরের তানভির ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামালের নাম করে বলেন, “গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।”
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠিচার্জ করুক, গ্যাসের সেল ফাটুক। কিন্তু পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেয়নি।” তিনি জানান, এই ঘটনায় ৬ জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও জানান।
রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ধর্মতলায় হওয়া বিশৃঙ্খলার জেরে এবার কড়া বার্তা সরকারের। গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা।
