আজকের দিনেতিলোত্তমা

ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ নিয়ে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট, ভরসা সেই ট্রাইব্যুনাল!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কলকাতা, কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: বাংলার ভোটার তালিকা আপাতত ‘ফ্রিজ’। বিবেচনাধীনদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বাদ পড়ে গিয়েছেন অনেকেই। সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে ট্রাইব্যুনালের কাজ। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে ‘বৈধ’ বলে বিবেচিত ভোটাররা কি আদৌ ভোট দিতে পারবেন? তা নিয়ে লাখ টাকার প্রশ্ন উঠলেও, ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করা নিয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং আবেদনকারীকে সেখানেই যেতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ আবেদনকারীদের দাবি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে। বৈধ পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও এবং নির্দিষ্ট কোনও কারণ না দেখিয়েই তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বেশ কয়েকজন। কিন্তু শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। শুনানিতে আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ:

  • জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজে ভুল হতেই পারে, কিন্তু তার জন্য তাঁদের এভাবে ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা উচিত নয়।
  • রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন—এই দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সংঘাতে মাঝে পড়ে সাধারণ ভোটাররা পিষ্ট হচ্ছেন।
  • তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আবেদনকারীদের ট্রাইব্যুনালের কাছেই যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রথম দফার ভোটের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে প্রথম দফার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

  • মোট ভোটার: ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১ জন।
  • পুরুষ ভোটার: ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৯৬ জন।
  • মহিলা ভোটার: ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ২১০ জন।
  • তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ৪৬৫ জন।

জেলাভিত্তিক ভোটারের হিসেব (প্রথম দফা):

  • সবচেয়ে বেশি ভোটার: মুর্শিদাবাদ (৫০ লক্ষ ২৬ হাজার)।
  • অন্যান্য উল্লেখযোগ্য জেলা: পূর্ব মেদিনীপুর (৪১ লক্ষ ৬০ হাজার) এবং পশ্চিম মেদিনীপুর (৩৭ লক্ষ ৭০ হাজার)।
  • সবচেয়ে কম ভোটার: কালিম্পং (মাত্র ২ লক্ষ ১ হাজার)।

দ্বিতীয় দফার নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের বাকি ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই, এদিন ট্রাইব্যুনাল সেন্টারগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিচারপতিরা। এখন দেখার, ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেষ পর্যন্ত কতজন ভোটার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *