তিলোত্তমাআজকের দিনে

মেসি কাণ্ডে আপাতত স্বস্তি অরূপ বিশ্বাসের, এখনই গ্রেফতার নয়, নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ হাই কোর্টের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা :- মেসি কাণ্ডে আপাতত স্বস্তি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের। কলকাতা হাই কোর্ট জানাল, এখনই তাঁকে গ্রেপ্তারির মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে তদন্ত চলবে। বুধবার শুনানিতে ‘গায়ে পড়া’ অরূপকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, “মেসি কি অরূপ বিশ্বাসের বাল্যবন্ধু?” বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে ৪ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

গত ডিসেম্বর থেকে মেসি কাণ্ডে উত্তাল বাংলা। ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫-এর ঘটনায় ৩০ মে, ২০২৬ অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগ, মেসিকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মেসির অনেক অনুরাগীরা টাকা দিয়েও টিকিট কেটে মেসিকে দেখতে পাননি । যুবভারতী জুড়ে কার্যত বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল সেদিন। বিগত তৃণমূল সরকার থাকাকালীন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ওই ইভেন্টের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। পরবর্তীকালে তিনি জেল থেকে ছাড়া পান । রাজ্যে পালাবদলের পর শতদ্রু সংবাদ মাধ্যমে মুখ খোলেন। তার নিশানায় ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস । তার অভিযোগের ভিত্তিতেই অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ঘটনার তদন্তে পুলিশ অ্যাকশন মোডে নামতেই রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অরূপ।

বুধবার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “মেসিকাণ্ডে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এই ঘটনা। মেসির অত কাছাকাছি অরূপ বিশ্বাস গেলেন কেন? গোটা দেশের আরও অনেক জায়গায় মেসি গিয়েছেন, কোথাও তো এসব হয়নি।”

রাজ্য রক্ষাকবচের বিরোধিতা করে জানায়, অভিযুক্ত প্রভাবশালী, তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন। পাল্টা অরূপের আইনজীবী জানান, রক্ষাকবচ পেলে কালই হাজিরা দেবেন এবং ডিম হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা চান।

দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি জানান, মামলার ধারাগুলিতে সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর। পাশাপাশি ৬ মাস পরে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় এখনই গ্রেপ্তারির প্রয়োজন নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “৬ মাস পরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, আর রাজ্য ভাবছে যে এতদিন পর অরূপ বিশ্বাস সাক্ষীদের ভয় দেখাবেন?”

কলকাতা হাইকোর্ট রক্ষাকবচ দিলেও আদালত একাধিক শর্ত দিয়েছে। পুলিশের নির্ধারিত দিনে হাজিরা দিতে হবে, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে, আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্য ছাড়া যাবে না এবং নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। কোনও সাক্ষীকে ভয় দেখানো যাবে না। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে হাই কোর্টে। মামলার পরবর্তী শুনানি ৪ আগস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *