আজকের দিনে

হরমুজে যুদ্ধের আগুন, তবুও ২০০ ডলার ছুঁল না তেল: নেপথ্যে ৪ কারণ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক: –পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের এই পথ বন্ধ হওয়ায় তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা করেছিলেন বিশ্লেষকরা। ব্রেন্ট ক্রুড ৭০ ডলার থেকে লাফিয়ে ১২৫ ডলার হলেও, কয়েক মাস পরও দাম ঘুরছে ১০০ ডলারের আশপাশে।

তেলের দাম ২০০ ডলার না ছোঁয়ার পিছনে কাজ করেছে একাধিক কারণ। হরমুজে সমস্যা হলেও সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে লোহিত সাগরের দিকে তেল পাঠাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ফুজাইরাহ বন্দরের পাইপলাইনে সরবরাহ বজায় রেখেছে। ঝুঁকি থাকলেও কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করছে। ফলে বাজারে বড় ঘাটতি হয়নি। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ চিনের চাহিদা কমেছে। Vortexa-র তথ্য বলছে, মে মাসে চিনের তেল আমদানি গত বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। কৌশলগত তেল ভাণ্ডার সম্প্রসারণে বিরতি, শিল্পে কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা এর মূল কারণ। ING Group-এর কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন বলেন, ‘ক্রুড মার্কেট থেকে চিনের পিছিয়ে আসা বিশ্ব বাজারকে ভারসাম্যে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।’ এছাড়া আমেরিকাও বড় ভূমিকা নিয়েছে। মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড ও জ্বালানি রপ্তানি গত বছরের গড়ের তুলনায় দৈনিক ২০ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন কৌশলগত তেল ভাণ্ডার থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছেড়েছে। সবশেষে, যুদ্ধের প্রথম ধাক্কায় বাজারে আতঙ্ক থাকলেও সময়ের সঙ্গে ট্রেডাররা বুঝেছেন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও থাকায় বিনিয়োগকারীরা বড় জল্পনামূলক বাজি কমিয়েছেন। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সে ওপেন ইন্টারেস্টও কমেছে। ফলে দাম বৃদ্ধির চাপ কমে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১৫০ থেকে ২০০ ডলার হলে পেট্রল, ডিজেল, এলপিজি থেকে পরিবহণ খরচ সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ত ভারতের মতো আমদানিকারক দেশে। দাম ১০০ ডলারের নীচে বা আশপাশে থাকায় সেই বড় ধাক্কা আপাতত এড়ানো গেছে। তবে বর্ধিত দাম এখনও ভারতের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *