Sukanta : ‘আগামী দিনে তৃণমূলের অস্তিত্বই থাকবে না’ — বাগডোগরায় হুঁশিয়ারি সুকান্ত মজুমদারের !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিজস্ব প্রতিনিধি: -রবিবার, ১৯ অক্টোবর উত্তরবঙ্গ সফরে এসে বাগডোগরা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূল-কংগ্রেসকে একযোগে নিশানা করে তাঁর বিস্ফোরক দাবি, ভবিষ্যতে তৃণমূলের অস্তিত্ব ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
রবিবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নেবে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষই ঠিক করবেন কোন দল প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসবে। একই সঙ্গে বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়েও আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য রাখেন সুকান্ত।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, রাহুলের বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নিজের দলের কর্মীরাও অনেক সময় তাঁর অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পান না।
হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। সুকান্তের স্পষ্ট বার্তা, আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি সকলের শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। কেউ আইনের প্রতি সম্মান না দেখালে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নিয়োগ দুর্নীতি, সিন্ডিকেট রাজ ও বেআইনি নির্মাণ ইস্যুতে চাপে তৃণমূল শিবির। লোকসভা ভোটের পর দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে। অন্যদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোট নিয়ে জাতীয় স্তরে টানাপোড়েন চলছেই। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরেও প্রশ্ন রয়েছে। এই আবহে সুকান্ত মজুমদারের ‘তৃণমূল থাকবে না’ মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। হুমায়ুন কবিরের মতো নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতেও তৃণমূলকে চাপে রাখতে চাইছে বিজেপি।
বাগডোগরায় দাঁড়িয়ে সুকান্ত মজুমদারের এই হুঁশিয়ারি বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করল। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ময়দান গরম করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ সত্যিই বদলায় কিনা, এখন সেটাই দেখার।
