শহরে মধুচক্র! হোটেলে লালবাজারের হানা, উদ্ধার নাবালিকা সহ ৩
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ কাজের টোপ দিয়ে নাবালিকাকে শহরে এনে জোর করে যৌন ব্যবসায় নামানোর মারাত্মক অভিযোগ। দক্ষিণ কলকাতার কসবার একটি নামী হোটেলে হানা দিয়ে এক নাবালিকা সহ তিনজনকে উদ্ধার করল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিডি)। এই ঘটনায় হোটেলের ম্যানেজার এবং রিসেপশনিস্ট সহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মধুচক্রের আড়ালে নারী পাচার
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম আকাশ গঙ্গোপাধ্যায় (হোটেলের ম্যানেজার), আনমোল ঠাকুর (রিসেপশনিস্ট) এবং দুই কুখ্যাত নারী পাচারকারী মহম্মদ আসিফ ও মুসকান পারভিন। অভিযোগ, শহরতলি ও গ্রামগঞ্জের সরল নাবালিকা ও তরুণীদের ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কলকাতায় নিয়ে আসত এই চক্রটি। তারপর তাঁদের বন্দি করে জোরপূর্বক নামানো হতো এই অন্ধকার ব্যবসায়। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের ফাঁদ পেতে খদ্দেরদের ওই হোটেলে ডেকে আনা হতো বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
গোয়েন্দাদের পাতা ফাঁদে গ্রেপ্তার
লালবাজার গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে খবর, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে কসবার ওই হোটেলের ভেতরে চলা এই অনৈতিক চক্রের খবর পৌঁছয় তাঁদের কাছে। খবর পাওয়া মাত্রই কোমর বেঁধে নামেন গোয়েন্দারা। খদ্দের সেজে নিখুঁত ফাঁদ পাতেন তাঁরা।
পরিকল্পনা মাফিক কসবার ওই হোটেলে আচমকা হানা দেয় লালবাজারের বিশেষ দল। সেখান থেকেই হাতেনাতে উদ্ধার করা হয় এক ১৫ বছরের নাবালিকা এবং দুই তরুণীকে। একই সাথে গ্রেপ্তার করা হয় হোটেলের কর্মী ও মূল পাচারকারীদের।
নিশানায় শহরের হোটেল-স্পা
কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় হোটেল, গেস্ট হাউস, নামী স্পা কিংবা ভুয়ো কল সেন্টারের আড়ালে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ নতুন নয়। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে আর কোন কোন রাঘববোয়াল জড়িয়ে রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া নাবালিকা ও তরুণীদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
