আজকের দিনেতিলোত্তমা

সিদ্দিকুল্লাহর নমাজ কর্মসূচি, দমদম বিমানবন্দরে জারি ১৬৩ ধারা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ দমদম বিমানবন্দর চত্বরে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক গৌরীপুর জামে মসজিদ বা ‘বাঁকড়া মসজিদ’ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই মসজিদের ভেতর নমাজপাঠ ও যাতায়াতের এন্ট্রি পাস বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার ওই মসজিদে নমাজ পাঠের কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই দমদম বিমানবন্দর সংলগ্ন বিরাটি ও বাঁকড়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে বিধাননগর পুলিশ।

কেন সরানো হচ্ছে এই ঐতিহাসিক মসজিদ?

দমদম বিমানবন্দরের দ্বিতীয় (ছোট) রানওয়েটির একেবারে ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থান করছে এই বাঁকড়া মসজিদ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে:

  • রানওয়ে সম্প্রসারণে বাধা: দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়েটি সম্প্রসারণের কাজ এই মসজিদের কারণে থমকে রয়েছে।

  • বিমান চলাচলে ঝুঁকি: প্রধান রানওয়েটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকলে দ্বিতীয় রানওয়ে দিয়ে বড় বিমান ওঠানামা করাতে গিয়ে মসজিদের অবস্থানের কারণে বড়সড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

  • সুরক্ষা ব্যবস্থা: বেশ কয়েক দশক ধরে এই মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চলার পর অবশেষে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এটি সরানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের ভেতর দিয়ে মসজিদে যাওয়ার পাস ও নমাজপাঠ বন্ধ করা হয়েছে।

রণক্ষেত্রের প্রস্তুতি! মোতায়েন র‍্যাফ, জলকামান ও কেন্দ্রীয় বাহিনী

আজ শুক্রবার সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নমাজ পড়ার ডাককে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বিধাননগর পুলিশ প্রশাসন।

  • ১৬৩ ধারা জারি: বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এবং তার আশেপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ, ওই এলাকায় কোনও রকম জমায়েত করা যাবে না।

  • নিরাপত্তা বেষ্টনী: রাস্তাঘাটে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী, র‍্যাফ (RAF) এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামানও।

  • যাত্রীদের নিরাপত্তা: ৭ নম্বর গেটের আশেপাশে লাগাতার পুলিশি টহল চলছে। পুলিশ মাইকিং করে জমায়েত না করার নির্দেশ দিচ্ছে। তবে এই উত্তেজনার আঁচ যাতে কোনওভাবেই বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের ওপর না পড়ে, সেদিকে কড়া নজর রেখেছে প্রশাসন।

আপাতত বিরাটি ও বাঁকড়া সংলগ্ন এলাকায় চাপা উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বদ্ধপরিকর পুলিশ ও প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *