আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়না

R G Kar : ‘তথ্য দিতে চাইলেও নেওয়া হচ্ছে না’: আরজি কর মামলায় তদন্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ নির্যাতিতার পরিবার !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তদন্তে একাধিক ‘ফাঁক’ রয়েছে বলে শিয়ালদহ আদালতে সরব হলেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাঁদের অভিযোগ, তাঁরা যে তথ্য দিতে চাইছেন তা নেওয়া হচ্ছে না। শুক্রবার আদালতে তিন অভিযুক্তের গ্রেপ্তারির দাবিতে কেন্দ্রীয় সংস্থা বিরোধিতা করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা।

গত ১৩ মে আরজি কর হাসপাতালে মহিলা জুনিয়র পিজিটি চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির দাবি তুলে শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার।

শুক্রবার শুনানিতে নির্যাতিতার মা-বাবা আদালতে জানান, মৃতদেহ আবিষ্কারের পর ক্রাইম সিনে ‘মাছের বাজারের মতো ভিড়’ ছিল। গ্রিন করিডর করে তড়িঘড়ি মৃতদেহ দাহের উদ্যোগ-সহ একাধিক লুপহোলস রয়েছে তদন্তে। তাঁদের আরও অভিযোগ, ‘আমরা যে তথ্যগুলো দিতে চাইছি সেগুলো নেওয়া হচ্ছে না।’

এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী অনুরাগ মোদী ও পার্থসারথি দত্ত আদালতে জানান, স্টেটাস রিপোর্টে এই তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার করার মতো কিছু পাওয়া যায়নি। সংস্থা জানায়, তথ্য-প্রমাণ ও ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ যোগ না থাকায় নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দাস এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নামে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়া হয়নি। ‘অ্যারেস্টের মতো মেটিরিয়াল নেই’, সাফ জানানো হয়। তাদের দাবি, এরা কেউ গাড়িতে দেহ এনেছিলেন, কেউ শ্মশানে দাহের ব্যবস্থা করেছিলেন, কোনও ক্রিমিনাল অফেন্স করেননি।

পাল্টা নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, ‘পুলিশকে যাঁরা নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁদের ভূমিকা দেখা হোক।’

তিন অভিযুক্তের গ্রেপ্তারির দাবিতে অনড় নির্যাতিতার পরিবার আর তদন্তকারী সংস্থার ‘প্রমাণ নেই’ অবস্থান, আরজি কর মামলায় নতুন করে জটিলতা তৈরি করল। আদালত ৩০ জুলাই স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১১ জুন। ক্রাইম সিনের ভিড় থেকে তড়িঘড়ি দাহ, তথ্য না নেওয়ার অভিযোগ, এই ফাঁকগুলো কি ভরাট হবে? নাকি সুবিচার অধরাই থেকে যাবে? নজর এখন আদালতের দিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *