আর জি কর ‘ফাইলস’ খুলতেই ফের অ্যাকশনে CBI, আজই হাসপাতালের কর্তাদের জেরার সম্ভাবনা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের নতুন করে গতি পেল আর জি কর মামলার তদন্ত। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ সোমবারই পৌঁছে গেল আর জি কর হাসপাতালে। আজ, সোমবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শুধু ঘটনাস্থল পরিদর্শনই নয়, সিটের আধিকারিকরা এদিন আর জি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও একটি দীর্ঘ বৈঠক করেন। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, মামলার জল কতদূর গড়িয়েছে তা জানতে আজই হাসপাতালের বেশ কয়েকজন পদস্থ আধিকারিককে ম্যারাথন জেরা করতে পারেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
হাই কোর্টের নির্দেশে নতুন ‘সিট’
সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্ট আর জি কর কাণ্ডের তদন্তে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি নতুন ‘সিট’ গঠনের নির্দেশ দেয়। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে ঘটা ওই নৃশংস ঘটনার রাত থেকে শুরু করে তাঁর শেষকৃত্য পর্যন্ত ঠিক কী কী ঘটেছিল, গোটা ঘটনাক্রম বা ‘টাইমলাইন’ নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। তদন্তের স্বার্থে মামলার প্রয়োজনীয় যেকোনো দিকে পা বাড়ানোর পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এই বিশেষ দলকে। সেই নির্দেশ মেনেই আজ সপ্তাহের প্রথম দিনেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামল সিবিআই।
ক্ষোভ কাটেনি অভয়ার পরিবারের
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নাইট শিফটের ডিউটিতে গিয়ে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার রুমে নৃশংসভাবে খুন ও ধর্ষণের শিকার হন তরুণী চিকিৎসক। কলকাতা পুলিশ ঘটনার পর সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে গেলেও, তারা নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিলেও, এই তদন্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি অভয়ার বাবা-মা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এই অপরাধের পেছনে আরও রাঘববোয়াল জড়িত রয়েছে, যারা এখনও আড়ালে।
নজরে প্রভাবশালী যোগ ও তৎকালীন পুলিশকর্তারা
বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফের নতুন করে ‘আর জি কর ফাইলস’ খোলার নির্দেশ দেন। এরপরই অ্যাকশনে নেমে সাসপেন্ড করা হয়েছে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে। তদন্তকারী সূত্রে খবর, ঘটনার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনো প্রভাবশালী মন্ত্রী এই পুলিশ আধিকারিকদের ফোনে বা মেসেজে কোনো বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল কিনা— তা এবার আতসকাচের নিচে রাখা হচ্ছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই তদন্তের মোড় এবার কোন প্রভাবশালী মহলের দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।
