Puri RathaYatra: পদপিষ্টের ঘটনায় বাতিলের পর ফের আজ সকাল থেকে শুরু পুরীর রথযাত্রা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- পুরীর রথযাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যথা সম্ভব চেষ্টা করেছিল বিজেপি সরকার। কিন্তু তার পরেও আটকানো গেল না ভয়াবহতা। প্রবল ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের মতো ঘটনা ঘটল। ২০২৫ এর পুনরাবৃত্তি হল ২০২৬ সালে। এই পরিস্থিতিতে বাতিল হল পুরীর রথযাত্রা! বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার রথ এগনো যায়নি। শেষ পর্যন্ত মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, বৃহস্পতিবার রথযাত্রা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। শুক্রবার সকাল থেকে ফের শুরু হবে যাত্রা। সেই মতো শুক্রবার সকালে ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার পাহান্ডি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুরী রথযাত্রা।
ওড়িশার পুরীতে ১৬ জুলাই থেকে প্রতিবছরের মতো প্রাচীন জগন্নাথ রথযাত্রা উদযাপিত হচ্ছে। ‘চ্যারিয়ট ফেস্টিভ্যাল’ বা রথ উৎসব নামেও পরিচিত এই নয় দিনব্যাপী উৎসবটি ২৪ জুলাই বিভিন্ন পবিত্র আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে। এক হাজারেরও বেশি বছরের পুরনো বলে মনে করা এই রথযাত্রার সূচনা হয়েছিল দ্বাদশ শতাব্দীতে গঙ্গা রাজবংশের শাসনামলে। রথযাত্রার শ্রীক্ষেত্র পুরীতে চেনা ভিড় এবারও। একটিবার প্রভুকে সচক্ষে দর্শন করার জন্য বৃষ্টির মধ্যেও দেশ-বিদেশের লাখো লাখো ভক্ত ভিড় জমিয়েছেন পুরীতে।
হুড়োহুড়ির মধ্যেই বৃহস্পতিবার বিপত্তি ঘটে যায়। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে যান কমপক্ষে ১২০ জন পুণ্যার্থী। অসুস্থদের দ্রুত উদ্ধার করে ভর্তি করানো হয় হাসপাতালে। পরে জানা যায়, অন্তত ২ জন ভক্ত প্রাণ হারিয়েছেন ভিড়ের চাপে। বিরাট জনসমাগম পেরিয়ে তিনটি রথ আর গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌঁছতে পারেনি। বৃহস্পতিবার পুরীর রথযাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি-সহ মন্ত্রিসভার একঝাঁক সদস্য। রথের রশিতে টান দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর বহু আগেই ভিড়ের জন্য থামিয়ে দেওয়া হয় রথযাত্রা।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ফের শুরু হবে যাত্রা। নিয়ম মেনেই তিনটি রথ নিয়ে যাওয়া হবে গুণ্ডিচা মন্দিরে। অপরদিকে ওড়িশার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, অসুস্থ বহু পুণ্যার্থীই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট, ডিহাইড্রেশন ও ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের চিকিৎসা জন্য পুরীর জেলা হাসপাতাল সহ একাধিক মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
এবং ভিড়ের চাপেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য পুরীর জেলা হাসপাতাল-সহ একাধিক মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। রথযাত্রা কেন্দ্র করে আগাম সতর্ক ওড়িশা প্রশাসন। কড়া নিরাপত্তা। মন্দির চত্বরে মোতায়েন করা হয় হাজার হাজার পুলিশকর্মী, দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী। প্রস্তুত রাখা হয় দমকল এবং চিকিৎসক টিমও। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য বিশেষ উদ্ধারপথও আগে থেকে তৈরি রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের তরফে ভক্তদের নির্ধারিত পথ ব্যবহার করে জগন্নাথ দর্শন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশ মেনে চলারও নির্দেশ ছিল, তাও আটকানো গেল না মৃত্যু।
