Power Crisis : দেশ জুড়ে বিদ্যুৎ সঙ্কট! ‘আঁধারে ডুবছে’ বাংলাদেশ, ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং, বাড়ছে জনরোষ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ভয়াবহ বিদ্যুৎ সঙ্কটে ধুঁকছে বাংলাদেশ। উৎপাদন কমে যাওয়ায় গোটা দেশ জুড়ে চলছে লম্বা লোডশেডিং। কোথাও কোথাও ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেই। ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলির নিরাপত্তা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে BREB। একইসঙ্গে শপিং মল, বাজারের সময় বদল সহ একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড BREB বুধবার পুলিশ সদর দফতরে চিঠি দিয়ে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। সংস্থার অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। কোথাও কোথাও সাব স্টেশনে হামলার ঘটনাও ঘটছে। তাই সাব স্টেশন ও অফিসগুলিতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খরচ কমাতে বুধবার থেকেই নতুন নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এখন থেকে শপিং মল, বাজার ও দোকান খোলা থাকবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। সন্ধ্যা ৭টার পর বন্ধ রাখতে হবে সব আলোকজ্জ্বল বিলবোর্ড। পাশাপাশি সব ধরনের সাজসজ্জার আলোও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, সরকারের হাতে বিকল্প খুবই কম। গ্যাস উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। FSRU ছাড়া গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “আপাতত লোডশেডিং সামলানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই।”
এদিকে আওয়ামি লিগ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও অর্থনীতিতে। শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন বন্ধ, কারখানায় কাজ থমকে গেছে। গ্যাস সংকটের সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জ্বালানি সংকট আর উৎপাদন ঘাটতির জেরে অন্ধকারে ডুবছে বাংলাদেশ। সরকারের কড়া পদক্ষেপেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না পরিস্থিতি। বাড়ছে জনরোষ, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা। বিদ্যুৎ মন্ত্রীর কথায় আপাতত লোডশেডিংই ভরসা। এই সঙ্কট কবে কাটবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
