বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল প্যারাগুয়ে, টাইব্রেকার-অঘটনে বিদায় জার্মানির
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বস্টন :- ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউটে রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ শেষে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল প্যারাগুয়ে। সাডেন ডেথে নায়ক গোলকিপার অরল্যান্ডো গিলের জোড়া সেভ। স্বপ্নভঙ্গ ম্যানুয়েল ন্যয়ারদের।
বস্টন স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল জার্মানি। ‘ট্যাকটিক্যাল ডিসিশন’-এ জামাল মুসিয়ালাকে বেঞ্চে রাখেন কোচ নাগেলসম্যান। ফল ভোগে দল। বল দখলে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে ধার ছিল না। ৪২ মিনিটে মাতিয়াস গালারজার ক্রস থেকে হেডে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন জুলিও এনসিসো। রুডিগার-তাহ জুটির মার্কিং-এর ভুলে ফাঁকায় গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে লিওঁ গোরেৎজকাকে নামিয়ে আক্রমণ বাড়ায় জার্মানি। ৫৪ মিনিটে উইর্ৎজের ক্রসে হেডে সমতা ফেরান কাই হাভার্ৎজ। এরপর এনসিসো চোট পেয়ে উঠে গেলে চাপ বাড়ে প্যারাগুয়ের। তবু গিলের দুরন্ত সেভে একাধিকবার বেঁচে যায় তারা। নির্ধারিত সময় ১-১।
অতিরিক্ত সময়েও নাটক। ১০২ মিনিটে জোনাথান তাহর হেড জালে জড়ালেও ‘ভার’-এ ফাউলের জন্য বাতিল হয় গোল। হ্যান্ডবলের আবেদনও নাকচ করেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
পেনাল্টিতে প্রথম শটেই হাভার্ৎজের শট বাঁচান গিল। কিমিখ, মুসিয়ালা, আমিরি গোল করলেও ভোলটেমাডের শট ফের রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার। তাহ বল আকাশে উড়িয়ে দেন সাডেন ডেথে। শেষ শটে হোসে গোল করতেই ইতিহাস গড়ে প্যারাগুয়ে। ন্যয়ারও বাঁচাতে পারেননি দলকে।
২০১৪-র চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিশ্বকাপে দুঃস্বপ্ন অব্যাহত। মুসিয়ালাকে বাইরে রাখা, মাঝমাঠের ব্যর্থতা আর প্যারাগুয়ের জমাট ডিফেন্স— সব মিলিয়ে ফের অঘটনের শিকার নাগেলসম্যানের দল। অন্যদিকে ‘পার্ক দ্য বাস’ কৌশল আর গিলের বীরত্বে রূপকথা লিখল প্যারাগুয়ে। ঘুমপাড়ানি শুরু থেকে রুদ্ধশ্বাস শেষ— বস্টনের রাত মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব।
