আজকের দিনেবাংলার আয়না

ভাড়ার তোয়াক্কা নেই! স্বাচ্ছন্দ্যের টানে এসি লোকালে উপচে পড়া ভিড়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: লোকাল ট্রেনের কামরায় একটু আরামদায়ক সফর—এক সময় শহরতলির যাত্রীদের কাছে যা ছিল কল্পনাতীত! বিশেষ করে বনগাঁ বা রানাঘাট শাখায় এসি লোকাল চালুর কথা শুনলে অনেকেই হেসেই খুন হতেন। কিন্তু সেই চেনা ছবি এখন অতীত। ভিড়, ধাক্কাধাক্কি আর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার চেনা অফিস যাত্রার ক্লান্তি দূর করতে এখন শিয়ালদহ শাখার এসি লোকালই ভরসা হাজার হাজার নিত্যযাত্রীর। স্বাচ্ছন্দ্যের টানে সাধারণ ট্রেনের চেয়ে ৮-৯ গুণ বেশি ভাড়া দিয়েও এই ট্রেনে সফর করছেন যাত্রীরা, যার জেরে অনেক দিনই সিটিং ক্যাপাসিটি বা বসার আসন সংখ্যাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে ভিড়।

আসন সংখ্যার চেয়ে ১৪০% বেশি যাত্রী! জুন মাসের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান:

পূর্ব রেলের পরিসংখ্যান বলছে, শিয়ালদহ মেন ও বনগাঁ লাইনে এসি লোকালের দৈনিক মোট সিটিং ক্যাপাসিটি (আপ ও ডাউন মিলিয়ে) ২,২৩২ জন। কিন্তু জুন মাসে যাত্রী সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো:

  • শিয়ালদহ-রানাঘাট শাখা: জুন মাসে মোট যাত্রী যাতায়াত করেছেন ৮০,৪০৮ জন। প্রতিদিন গড়ে ২,৮৭২ জন যাত্রী সফর করেছেন, যা মোট আসন ক্ষমতার প্রায় ১২৮.৭ শতাংশ! জুন মাসে এই ট্রেন থেকে রেলের আয় হয়েছে ৬১.৩৮ লক্ষ টাকা।

  • শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখা: শুরুতে সংশয় থাকলেও এখন এই লাইনে ক্রেজ সবচেয়ে বেশি। জুন মাসে সফর করেছেন ৮১,৩৩২ জন। প্রতিদিন গড়ে যাত্রী সংখ্যা ছিল ৩,১২৮ জন, যা আসন ক্ষমতার ১৪০ শতাংশ! কিছু কিছু দিনে এই ভিড় ১৮৫ থেকে ১৮৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। জুন মাসে রেলের পকেটে এসেছে ৬২.৩৬ লক্ষ টাকা।

  • শিয়ালদহ-কৃষ্ণনগর শাখা: জুন মাসে মোট ৬১,৭৯৭ জন যাত্রী সফর করেছেন। প্রতিদিন গড়ে ২,৪৭২ জন এই এসি ট্রেন বেছে নিয়েছেন, যা আসন ক্ষমতার ১১১ শতাংশ। আয় হয়েছে ৪৮ লক্ষ টাকারও বেশি।

কেন সাধারণ ট্রেনের চেয়ে ৯ গুণ বেশি ভাড়ার এসি লোকাল পছন্দ যাত্রীদের?

বনগাঁ বা রানাঘাট থেকে শিয়ালদহের এসি লোকালের একদিকের ভাড়া ১২০ টাকা। আর মান্থলি টিকিট যথাক্রমে ২,৪৩০ টাকা এবং ২,৪৪০ টাকা (দিন প্রতি খরচ প্রায় ৮১ টাকা)। এত বেশি ভাড়া এবং বসার জায়গা না মেলা সত্ত্বেও যাত্রীদের পছন্দের কারণ:

  • অফিসযাত্রীদের বক্তব্য: দেবময় পাল বা শ্রেষ্ঠা দাসের মতো অফিসযাত্রীদের মতে, এই ট্রেনের কামরায় স্পেস বা জায়গা অনেক বেশি। সাধারণ লোকালের মতো গাদাগাদি বা দমবন্ধ করা পরিবেশ এখানে থাকে না।

  • অ্যাম্বুলেন্সের বিকল্প: শহরতলির বহু মানুষ এখন কোলকাতায় রোগী নিয়ে আসার জন্য মোটা টাকা খরচ করে গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া না করে এই এসি লোকাল বেছে নিচ্ছেন। এতে টাকা যেমন বাঁচছে, তেমনই যানজট এড়িয়ে দ্রুত পৌঁছানো যাচ্ছে।

শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানান, এসি লোকাল পরিষেবা অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং তাঁদের প্রত্যাশা মতোই সাড়া মিলেছে। শহরতলির এই পরিষেবায় যাত্রী উপস্থিতি আগামী দিনে মেট্রোর মতোই ২০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

তবে নিত্যযাত্রীদের চাহিদার মাঝেও এখনই নতুন কোনো এসি লোকাল বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই রেলের। ডিআরএম স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে শিয়ালদহ মেন, বনগাঁ ও বারাসত মিলিয়ে মোট ৬ জোড়া এসি ট্রেন চলছে। রেলের হাতে এই মুহূর্তে মাত্র দুটি রেক রয়েছে এবং সেগুলিকে ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ মাত্রায় কাজে লাগানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *