৮০ লক্ষ টাকা তছরুপ: ইস্তফা দিলেন রাম মন্দির ট্রাস্টের দুই শীর্ষ কর্তা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, উত্তরপ্রদেশ:- অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানপত্রের টাকা তছরুপের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি অনেক আগেই ট্রাস্টের নজরে আসা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বর্তমানে রাম মন্দির ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠছে।
সূত্রে খবর, গত ৪ জুন ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের নজরে আসে যে মন্দিরের তহবিলে কারচুপি হয়েছে। এর পরদিন, অর্থাৎ ৫ জুন ট্রাস্টের সদস্যরা, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশকে নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়ি গিয়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেন। বাকি টাকা অভিযুক্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ জুনের মধ্যে ট্রাস্টে ফিরিয়ে আনা হয়। অভিযোগ, প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হওয়া সত্ত্বেও, ২০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়নি।
এই ঘটনায় ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই এবং সদস্য অনিল মিশ্রর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সন্দেহের তীর ছিল রাম মন্দিরের কর্মী টিনু যাদবের দিকে। তার কাছে মূল্যবান ধাতু পাওয়া গেলেও, অভিযোগ রয়েছে যে ট্রাস্টের উদ্ধারকারী দল প্রথম দিনে টিনুর বাড়িতে তল্লাশি চালায়নি, যা তাকে টাকা ও সম্পদ সরিয়ে ফেলার সুযোগ করে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন ট্রাস্টের নিজস্ব কোনো সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা হয়নি। কারণ, ট্রাস্টের গাড়ি বের করলে তার লগবুকে এন্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ, এই অভিযান যাতে নথিবদ্ধ না হয়, সেজন্য ট্রাস্টের সদস্যরা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেছিলেন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ৬ জুন সমাজবাদী পার্টির নেতা পবন পান্ডে দলনেতা অখিলেশ যাদবকে অবহিত করেন। অখিলেশ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ৭ জুন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। যদিও তখন ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্তের গতি বাড়লে এবং ৮ জন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ার পর চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র ট্রাস্টের পদ থেকে ইস্তফা দেন।
বর্তমানে এই ঘটনার তদন্তে নেমে সিট ট্রাস্টের সাথে যুক্ত অন্তত ৪০ জনকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছে। এত বড় একটি আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় ট্রাস্টের কার্যক্রম, পুলিশি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব এবং পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে এখন জনমনে নানা সংশয় দানা বেঁধেছে।
