হাসনাবাদে ২ মাসের শিশুকে পুকুরে ডুবিয়ে ‘খুন’
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,উত্তর চব্বিশ পরগণাঃ বিছানায় ঘুমোচ্ছিল মাত্র দুই মাসের একরত্তি শিশু। তাকে রেখে সামান্য সময়ের জন্য শৌচালয়ে গিয়েছিলেন মা। কিন্তু ফিরে আসতেই চোখ কপালে উঠল তাঁর! বিছানা সম্পূর্ণ খালি, খোলা পড়ে রয়েছে ঘরের দরজা। এরপরই শুরু হয় খোঁজখুঁজি। অবশেষে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার হলো সেই একরত্তির নিথর দেহ। উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের বোলদেপোতা এলাকার এই নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্তব্ধ গোটা এলাকা। পরিবারের অভিযোগ, কেউ বা কারা পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে পুকুরের জলে ডুবিয়ে খুন করেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বোলদেপোতা এলাকার ওই বাড়িতে দুই মাসের সন্তানকে নিয়ে থাকতেন তার মা, দাদু ও ঠাকুমা। শিশুটির বাবা কাজের সূত্রে রাজ্যের বাইরে থাকেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাড়িতে দাদু-ঠাকুমা ছিলেন না, তাঁরা পাশে জ্যাঠার বাড়িতে গিয়েছিলেন। ফলে শিশুটিকে নিয়ে মা একাই ছিলেন। সন্ধ্যা নাগাদ বারান্দার খাটে সন্তানকে শুইয়ে রেখে শৌচালয়ে যান মা। বারান্দার গেটে তালা দেওয়া না থাকলেও তা বন্ধ করা ছিল। কিন্তু শৌচালয় থেকে বেরিয়েই মা দেখেন, বিছানায় শিশুটি নেই এবং বারান্দার গেটটি খোলা!
পুকুরে ভাসছিল একরত্তির দেহ!
সন্তানকে দেখতে না পেয়ে চিৎকার জুড়ে দেন মা। তাঁর কান্নায় ছুটে আসেন প্রতিবেশীরাও। চারদিকে চলে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি। খবর দেওয়া হয় হাসনাবাদ থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির পাশের একটি পুকুরে শিশুটির দেহ ভাসতে দেখা যায়। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ পরিবারের
এক্কেবারে কোলের শিশুকে কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এভাবে নৃশংসভাবে খুন করল—তা ভেবেই কূল কিনারা পাচ্ছে না পরিবার। তবে ঘটনাটি যে নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে নিশ্চিত পরিবারের সদস্যরা। ইতিমধ্যেই পরিবারের তরফ থেকে হাসনাবাদ থানায় একটি পরিকল্পিত খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আজ (সোমবার) বসিরহাট জেলা হাসপাতালে শিশুটির মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই ঘটনার পিছনে কোনো পারিবারিক শত্রুতা নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোর কদমে তদন্ত শুরু করেছে হাসনাবাদ থানার পুলিশ।
