মেসি-কাণ্ড: পুলিশি হাজিরা এড়ালেন অরূপ বিশ্বাস
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা:- লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি বিতর্কে নতুন মোড়। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা এড়াতে আরও দুই সপ্তাহের সময় চাইলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি এই আবেদন করেছেন। অন্যদিকে বারাসত আদালত তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রীর ওপর আইনি চাপ অনেকটাই বেড়েছে।
অভিযোগ ও মামলার প্রেক্ষাপট
গত ১৭ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন মেসি ইভেন্টের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে:
-
টিকিট কালোবাজারি: প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি করার অভিযোগ উঠেছে।
-
প্রতারণা ও তোলাবাজি: ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।
-
অনুমতিহীন আচরণ: পদের প্রভাব খাটিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই ফুটবল তারকা মেসির অত্যন্ত কাছাকাছি যাওয়া এবং তাঁর সংস্পর্শে আসার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসিকে নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা থাকলেও তা চরম বিশৃঙ্খলার কারণে ভেস্তে যায়। আয়োজকদের দাবি, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও অব্যবস্থাপনার কারণেই অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়েছিল এবং স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চলে। এই ঘটনার জেরে পরবর্তীতে অরূপ বিশ্বাসকে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফাও দিতে হয়েছিল।
হাজিরার নির্দেশ ও অরূপের অসুস্থতা
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে তলব করে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু হাজিরার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রাক্তন মন্ত্রী পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান যে, অসুস্থতার কারণে তাঁর পক্ষে এখন আসা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে তিনি অন্তত দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। বারাসত আদালত থেকে আগাম জামিন নাকচ হওয়ায় বর্তমানে তাঁর কাছে কোনো আইনি সুরক্ষা নেই।
তীব্র কটাক্ষ মামলাকারীর
অরূপ বিশ্বাসের আচমকা অসুস্থতার খবর সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও কটাক্ষ প্রকাশ করেছেন মামলাকারী শতদ্রু দত্ত। তিনি লিখেছেন, “সমন আসতেই হঠাৎ অসুস্থতা! কিন্তু একটা কথা মনে রাখুন—মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে হয়তো সময় কেনা যায়, কিন্তু বিচার থেকে পালানো যায় না।”
তিনি এই অসুস্থতাকে স্রেফ ‘কাকতালীয়’ বলে মানতে নারাজ এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে মেসি ইভেন্ট ঘিরে বিতর্ক নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে।
