আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নারাজনীতি

Mamata-Ritabrata : জোড়াফুল প্রতীক কার হাতে? স্বাধীনতা দিবসের আগেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ মমতা-ঋতব্রত !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং দলের নাম কার দখলে থাকবে তা নিয়ে জল্পনা চরমে। সূত্রের খবর, স্বাধীনতা দিবসের আগেই চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে নির্বাচন কমিশন। দল এখন দ্বিধাবিভক্ত – একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবির।

নির্বাচন কমিশন দুই শিবিরকেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য তথ্য-প্রমাণ জমা দিতে বলেছিল এবং সেই মতো দুই পক্ষের তরফেই নথি জমা পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির তাদের ১৯৯৭ সালে দল তৈরির প্রস্তুতির সময় থেকে যাবতীয় নথি, আন্দোলনের তথ্য প্রমাণ সব দাখিল করেছে কমিশনে। পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরও বিধানসভায় ৬৫ জন বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন এই হিসাব-সহ যাবতীয় নথি জমা দিয়েছেন। সোমবার ঋতব্রতরা দাবি করেছেন সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। এছাড়াও সংসদে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদও তাঁদের পক্ষে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মধ্যেই ঋতব্রতদের বাড়তি সময় না দেওয়ার জন্য কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন মমতা। যদিও এখন সবটাই নির্বাচন কমিশনের হাতে।

কমিশন যদি প্রতীক বিদ্রোহী শিবিরের হাতে তুলে দেয় তাহলে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন ঋতব্রতরা। এই আশঙ্কা থেকেই কালীঘাট শিবিরে বিকল্প প্রতীকের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সূত্রের দাবি, জোড়াফুল হাতছাড়া হলে নতুন প্রতীকেও ফুল রাখার কথাই ভাবছেন মমতা এবং সেক্ষেত্রে সূর্যমুখী ফুলও বিকল্প হিসেবে থাকতে পারে। তবে প্রতীক এবং দল দুটোই হাতছাড়া হলে একেবারে নতুন করে শুরু করতে হবে তাঁকে।

অন্যদিকে এনসিপিআই থেকে দুই সাংসদের কালীঘাট শিবিরে ফিরতে চাওয়ার খবরও এসেছে। তাঁদের বক্তব্য তাঁরা এনসিপিআইতে থাকলেও এনডিএ-তে নেই। তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত দুই পক্ষই নতুন করে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। ফলে আপাতত দুই শিবিরেই টানটান উত্তেজনা।

জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হলে মমতাকে একেবারে নতুন করে শুরু করতে হবে। আর ঋতব্রতরা প্রতীক পেলে তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবেন। কমিশনের একটা সিদ্ধান্তেই বাংলার রাজনীতির সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যেতে পারে। তাই দুই শিবিরেই এখন চোখ কমিশনের রায়ের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *