আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

সই বিতর্কে চাপে অভিষেক, জেরার পর নতুন রাজনৈতিক জল্পনা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- পশ্চিমবঙ্গে সই জালিয়াতি বিতর্ক মামলায় তিনবার হাজিরা এড়িয়ে অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তকারী সংস্থার সামনে ভবানী ভবনে বৃহস্পতিবার হাজির হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তদন্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রথমে ৬-৭ জন তদন্তকারী অফিসারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিষেককে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির ছিলেন সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকার সহ ১০ জন তদন্তকারী অফিসার। বৈঠকে না থাকা সত্ত্বেও বিধায়কদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত নথি, প্রস্তাবপত্র তৈরির প্রক্রিয়া বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান তদন্তকারীরা।

জেরার সময় একাধিক প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নথি বা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন বলে এবং হারিয়েছেন মেজাজও বলে সূত্রের দাবি। তদন্তকারীরা অবশ্য এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলেই জানা যাচ্ছে,সেই কারণেই তাঁকে আবারও রবিবার প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে সরাসরি কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান। সেখানে দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে রাত বারোটা বেজে দশ মিনিট পর্যন্ত বৈঠক হয় বলে রাজনৈতিক মহলে খবর ছড়িয়েছে। বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে এখনো পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।

এই ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল নেতৃত্বের ডাকা এক বৈঠকে দলের বিধায়কদের উপস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। উপস্থিত বিধায়করা হাত তুলে সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানান। তবে বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দলনেতার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার জন্য একটি লিখিত প্রস্তাবপত্র প্রয়োজন ছিল, যা সেদিন জমা দেওয়া হয়নি।

এরপর ১৩ ও ১৪ মে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয়। শপথের পরে বিধায়কদের স্বাক্ষর নথিভুক্ত করা হয় বিধানসভার নিয়ম মেনে। পরে বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র চায় বিধানসভার সচিবালয়। সেই উদ্দেশ্যে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে কিছু বিধায়ক উপস্থিত থাকলেও অনেকে অনুপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং অনুপস্থিতদের তালিকাও তৈরি করা হয়।

পরবর্তীতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথি বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়। কিন্তু বিধানসভার কাছে আগে থাকা স্বাক্ষরের নমুনা এবং নতুন জমা দেওয়া নথির স্বাক্ষরের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।এরপরই বিষয়টি প্রশাসনিক স্তর পেরিয়ে আইনি তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।বিধানসভার সচিবের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় এফআইআর দায়ের হয়। তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। তদন্ত চলাকালীন দলের এক ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলেন যে, পুরো ঘটনায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *