আজকের দিনেভারত

আজ যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র বিক্ষোভ প্রদর্শন, হাই অ্যালার্টে পুলিশ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়াদিল্লি:- নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে এবার উত্তাল দেশের রাজধানী। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আজ, শনিবার সকাল ৯টা থেকে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। দিল্লি হাইকোর্ট এই বিক্ষোভকে চ্যালেঞ্জ করে করা একটি আবেদনের জরুরি শুনানি করতে অস্বীকার করায়, এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সামনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। বিচারপতি সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অমিত শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আবেদনটির শুনানি পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ীই হবে।

বস্টন থেকে ফিরেই আন্দোলনের ডাক অভিজিৎ দীপকের

শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

  • আমেরিকা থেকে প্রত্যাবর্তন: পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে শনিবার সকালেই আমেরিকার বস্টন থেকে নয়াদিল্লিতে এসে পৌঁছন তিনি।

  • সমর্থকদের বার্তা: দেশীয় রাজনীতি ও সমাজ মাধ্যমে আলোড়ন ফেলে ‘এক্স’ (টুইটার)-এ একটি পোস্ট করেছেন অভিজিৎ। সেখানে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন:

“যন্তর মন্তরে আপনাদের সকলের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রইলাম। একটি বই এবং আমাদের তেরঙা পতাকা আনতে ভুলবেন না! সহানুভূতি ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে পুলিশদের ফুল দেবেন। আমাদের অবশ্যই ভালোবাসা ও শান্তির সঙ্গে এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিতে হবে!”

আল্টিমেটাম শেষে বিক্ষোভে সোনম ওয়াংচুক

এই আন্দোলনের তীব্রতা বাড়িয়েছেন খ্যাতনামা শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ৫ জুনের মধ্যে যদি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করেন, তবে তিনি নিজে এই বিক্ষোভে শামিল হবেন। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলনে যোগ দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় দিল্লি, পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ

বিক্ষোভের জেরে যাতে আইন-শৃঙ্খলার কোনো অবনতি না ঘটে বা যান চলাচলে বড় বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে:

  • কড়া নজরদারি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানসহ অন্যান্য মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • ১০০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন: নয়াদিল্লি এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা এলাকাসহ সমস্ত সংবেদনশীল জায়গায় ১,০০০-এরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

  • ১২টি জোনে ভাগ: পুরো মধ্য দিল্লিকে ১২টি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনের দায়িত্বে একজন করে ডিসিপি (DCP) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করা হয়েছে। সমস্ত জেলা ও ইউনিটের ডিসিপিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সংঘর্ষ এড়ানোর নির্দেশ: দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কোনো রকম সরাসরি সংঘর্ষে জড়ানো যাবে না। আলোচনার মাধ্যমে অত্যন্ত সংযতভাবে শান্তি বজায় রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *