পুকুরের জলে লুকানো অস্ত্র ভান্ডার! বেপাত্তা শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সন্দেশখালির মণিপুরে ফের অস্ত্র উদ্ধার। তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি রবীন দাসের বাড়ির পুকুর থেকে রাশি রাশি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করল বেঙ্গল এসটিএফ। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ রবীন ও তাঁর ভাই গোপাল দাস। তল্লাশি চলছে রাজ্যের আরও কয়েকটি জায়গায়।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার সকালে সন্দেশখালির মণিপুরে হানা দেন বেঙ্গল এসটিএফের আধিকারিকরা। প্রাক্তন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি রবীন দাসের বাড়ি লাগোয়া পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে তাজ্জব হন তদন্তকারীরা। পুকুরের ভিতর লুকনো ছিল বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার। এখনও পর্যন্ত ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারের পালাবদলের আগে এই রবীন দাস ও গোপাল দাস এলাকার ‘ত্রাস’ ছিল। শেখ শাহজাহানের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকত ‘দাস ব্রাদার্স’। এলাকার পুরুষদের উপর অত্যাচার, রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া, কথামতো না চললেই বেধড়ক মারধর, পা ভেঙে দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তাদের অত্যাচারে এলাকাছাড়াও হতে হয়েছে অনেককে। এদিন এসটিএফ হানায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। অবিলম্বে দুই ভাইয়ের গ্রেপ্তারির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।এদিন কুমরাখালির সরবেড়িয়া বাজার, বাসন্তী, সন্দেশখালিতেও অভিযান চালান আধিকারিকরা। বেঙ্গল এসটিএফের এই অভিযানের প্রশংসা করে X হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লেখেন, “বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আমি আধিকারিকদের অ্যাকশনের প্রশংসা করি।” শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, “পূর্বতন সরকারের আমলে স্থানীয়দের ভয় পাওয়ানোর জন্য বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র মজুত করা হত। তার ফলে বহু বিজেপি কার্যকর্তার প্রাণ গিয়েছে। অন্ধকার দিন কেটে গিয়েছে। আমাদের সরকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আমরা সবসময় খেয়াল রাখছি যাতে একটিও বেআইনি অস্ত্র মজুত না করা যায়। অসাধু কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টার দিন ধুয়েমুছে সাফ। শান্তি, নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
সন্দেশখালি-কাণ্ডের পর ফের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য এলাকায়। যদিও পুকুরের মালিক রবীন দাস ও গোপাল দাস এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে এসটিএফ।
