আজকের দিনেতিলোত্তমা

OMR-এর কার্বনকপি এবার হাতে পাবেন চাকরিপ্রার্থীরা, নিয়োগে স্বচ্ছতার মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দুর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা : – নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এবার থেকে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রার্থীকে OMR শিটের কার্বনকপি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। শিয়ালদহে আয়োজিত রোজগার মেলা থেকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পূর্বের সরকারের আমলে লাগাতার নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের বদনাম হয়েছে, এবার সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে ১০০ শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগই লক্ষ্য।

শিয়ালদহে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত রোজগার মেলার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কার্বন কপি প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে দেওয়া উচিত। এতদিন OMR পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলেও কার্বন কপি দেওয়া হয় না। স্বজনপোষণ, দুর্নীতি—এই শব্দগুলোর উৎপত্তি এখান থেকেই আসে। তাই এবার থেকে কার্বন কপি দেওয়া হবে।”তিনি আরও জানান, নতুন সরকারের জমানায় নতুন নিয়োগ নীতি বলবৎ হবে। আগামী বাজেট অধিবেশনেই বিধানসভায় এই প্রস্তাব পেশ করা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধাবীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেবে রাজ্য সরকার। স্বচ্ছতার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষা, অ্যাকাডেমিক স্কোর, মৌখিকে অতিরিক্ত নম্বর রাখা যাবে না।” ভাইভার ক্ষেত্রে মিনিমাম নম্বর রাখার কথাও বলেন তিনি।গত সরকারের আমলে মৌখিক পরীক্ষায় স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, ভাইভায় অতিরিক্ত নম্বর পাইয়ে দিয়ে ‘অযোগ্য’রাও সুযোগ পেয়েছিলেন। তৃণমূল জমানায় সরকারি নিয়োগের পরীক্ষায় সংবিধানও মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, “এসসি, এসটি, অরিজিনাল ওবিসি, বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীদের সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও মানা হয়নি নিয়ম।”২৬ হাজার চাকরি চুরি, টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের সুযোগ করে দেওয়ার মতো অভিযোগে রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থা রসাতলে গেছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের দুর্নীতি দেখে রেল ও আধাসেনার মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিও নিয়োগে সতর্ক হয়ে গিয়েছিল।

ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে দুর্নীতিমুক্ত কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। OMR শিটের কার্বনকপি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, ভাইভায় নম্বরের সীমা বেঁধে দেওয়া এবং সংবিধান মেনে সংরক্ষণ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরানোই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। নতুন নিয়োগ নীতি কার্যকর হলে মেধার ভিত্তিতেই চাকরি পাবেন যোগ্য প্রার্থীরা, এমনটাই আশা রাজ্য সরকারের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *