দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা : – দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ও স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুর পারিষদ সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। শনিবার সকালে নিজের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে নাগেরবাজার থানার পুলিশ। আইএসএল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই অনুমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সঞ্জয় দাস। তিনি রাজারহাট গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী তথা বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বে থাকা কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। গত সপ্তাহেই তোলাবাজি ও ভোট পরবর্তী হিংসা-সহ একাধিক মামলায় পুলিশ আটক করেছিল দেবরাজ চক্রবর্তীকে। এরপরই তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে সঞ্জয় দাসের আচমকা মৃত্যু নানা প্রশ্ন তুলছে। তাহলে কি গ্রেপ্তারির ভয়েই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন? নাগারবাজার থানার পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট হবে। ঘটনার খবর পেয়েই শোকে পাথর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হাসপাতালে পৌঁছে যান প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি। এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া।
দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেপ্তারির পর তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের একে একে পুলিশি জালে ধরা পড়ার ঘটনার মধ্যেই সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। এটি নিছকই অবসাদজনিত আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও চাপ বা ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্তের পরই জানা যাবে। আপাতত গোটা ঘটনায় দক্ষিণ দমদমের রাজনীতি সরগরম।
