‘হিজাব চলবে, তিলক নয়’— লেন্সকার্টকে ঘিরে বিতর্কের ঝড়
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ হিজাব পরা যাবে কিন্তু কপালে তিলক বা টিপ নয়— নামী চশমা বিপণি সংস্থা ‘লেন্সকার্ট’-এর কর্মী নীতি নিয়ে এমনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল নেটপাড়া। এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের করা এই অভিযোগের জেরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন সংস্থার প্রধান পীযূষ বনসল। সাফ জানিয়ে দিলেন, এই দাবি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
সম্প্রতি একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার লেন্সকার্টের ‘ড্রেস কোড’ বা পোশাকবিধি নিয়ে একটি পোস্ট করেন। তাঁর দাবি ছিল, সংস্থাটি কর্মীদের হিজাব পরার অনুমতি দিলেও হিন্দু ধর্মীয় চিহ্ন যেমন তিলক বা টিপ পরতে বাধা দিচ্ছে। ওই ইনফ্লুয়েন্সার আরও দাবি করেন যে, তাঁর কাছে সংস্থার অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকার নথি রয়েছে এবং তিনি একটি লিঙ্কও শেয়ার করেন। ভারতভিত্তিক একটি সংস্থায় অধিকাংশ হিন্দু কর্মী থাকা সত্ত্বেও কেন এমন বৈষম্যমূলক নীতি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বয়কটের ডাক দেন নেটিজেনদের একাংশ।
পীযূষ বনসলের কড়া জবাব
বিতর্ক চরম আকার ধারণ করলে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে মুখ খোলেন পীযূষ বনসল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান,অনলাইনে যে নথির কথা বলা হচ্ছে, সেটি বর্তমান নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। লেন্সকার্টের নীতিমালায় কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার বা মতপ্রকাশের ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই। সংস্থাটি নিয়মিত তাদের নির্দেশিকা পর্যালোচনা করে এবং প্রয়োজনে সংশোধন করে।
“ভারতীয়দের দ্বারা, ভারতীয়দের জন্য”
সংস্থার ভারতীয় পরিচয়কে সামনে রেখে পীযূষ লেখেন, “দেশজুড়ে আমাদের হাজার হাজার কর্মী রয়েছেন। তাঁরা প্রতিদিন আমাদের স্টোরগুলিতে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে নিজেদের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে কাজ করেন। লেন্সকার্ট ভারতে, ভারতীয়দের দ্বারা এবং ভারতীয়দের জন্যই তৈরি। আমরা আমাদের আদর্শে কখনও আপস করিনি এবং করবও না।” সংস্থার প্রধানের এই স্পষ্ট বার্তার পর বিতর্কের জল কতটা থিতু হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে লেন্সকার্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কর্মীদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করা তাদের নীতিবিরুদ্ধ।
