ঋতুকালীন ছুটি কোনো ‘প্রিভিলেজ’ নয়,কর্নাটক হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কর্নাটকঃ কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অধিকার ও শারীরিক মর্যাদার প্রশ্নে এক অনন্য নজির গড়ল কর্নাটক হাইকোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক কিছু পর্যবেক্ষণের ঠিক উল্টোপথে হেঁটে আদালত সাফ জানাল— রাজ্যের প্রতিটি সরকারি, বেসরকারি এমনকি অসংগঠিত ক্ষেত্রেও ‘মেনস্ট্রুয়াল লিভ’ বা ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করতে হবে সরকারকে।
আদালতের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ
বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কর্নাটক হাইকোর্ট জানায়, নারী ও পুরুষ আইনের চোখে সমান হলেও তাঁদের জৈবিক বাস্তবতা ভিন্ন। সেই ভিন্নতাকে সম্মান জানানোই হলো প্রকৃত সমতা। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত সাম্যের অধিকার মানে এই নয় যে শারীরিক পার্থক্যকে অস্বীকার করতে হবে।
ঋতুকালীন ছুটি কোনো বাড়তি সুবিধা বা ‘প্রিভিলেজ’ নয়; এটি একজন মহিলার মর্যাদা এবং তাঁর শারীরিক বাস্তবতার প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।
অসংগঠিত ক্ষেত্রে বিশেষ জোর
হাইকোর্ট বিশেষ করে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের কথা উল্লেখ করেছে। আদালতের মতে, যাঁরা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কায়িক পরিশ্রমের কাজ করেন, তাঁদের জন্য এই ছুটি আরও বেশি জরুরি। কারণ কর্মক্ষেত্রে তাঁদের জন্য ন্যূনতম পরিচ্ছন্নতা বা স্যানিটেশন বজায় থাকে না, যা ঋতুকালীন সময়ে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সরকারকে কড়া নির্দেশ
উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবর মাসেই কর্নাটক মন্ত্রিসভা মহিলা কর্মীদের মাসে একদিন করে সবেতন ঋতুকালীন ছুটির প্রস্তাব পাশ করেছিল। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা থেকে শুরু করে বহুজাতিক কোম্পানি— সব ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভায় পাশ হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। এদিন আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সরকারকে দ্রুত এই নিয়ম আইন হিসেবে কার্যকর করতে হবে।
জাতীয় প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মামলায় পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করলে সংস্থাগুলি মহিলাদের নিয়োগ করতে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। সেই আশঙ্কায় দেশজুড়ে এই ছুটি বাধ্যতামূলক করার আর্জিও খারিজ করেছিল শীর্ষ আদালত। কিন্তু কর্নাটক হাইকোর্টের এই রায় সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাল।
প্রসঙ্গত, ভারতে বিহার ১৯৯২ সাল থেকেই মাসে দু’দিন করে এই ছুটি দিয়ে আসছে। কেরল ও ওড়িশাও এই পথে হেঁটেছে। এবার কর্নাটক হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর সারা দেশে কর্মজীবী মহিলাদের অধিকার নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হলো।
